আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে স্টেট ব্যাংকের ম্যানেজারের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল বাঁকুড়ার এক যুবতীর পচাগলা মৃতদেহ। আসানসোলে মাসির বাড়ি গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই যুবতী শিল্পা অগ্রবাল। তদন্তে নেমে, আজ সকালে মেজিয়া থানার পুলিশ দুর্গাপুরের ওই ব্যাংক ম্যানেজারের ফ্ল্যাট থেকে ব্যাগবন্দী দেহটি উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজীব কুমার ও তাঁর স্ত্রী মনীষা কুমারকে আটক করা হয়েছে। যুবতীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। রাজীব কুমার স্টেট ব্যাঙ্কের মেজিয়া শাখার ম্যানেজার ছিলেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী মনীষা বেনাচিতিতে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। মনীষাদেবীও ওই স্টেট ব্যাংকেরই দুর্গাপুরের ফুলঝোড় শাখার ম্যানেজার।
ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেই অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন শিল্পা। সেই সূত্রেই রাজীববাবুর সঙ্গে পরিচয় তাঁর। গত শুক্রবার আসানসোলে মাসির বাড়ি যান শিল্পা। সেদিনই বাড়ির লোকের সঙ্গে শেষ কথা হয় তাঁর। এরপর তাঁর ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। মেজিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার।
তদন্তে নেমে তাঁর মোবাইল ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে, দুর্গাপুরের নইমনগরে মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন দেখাচ্ছে। সেখানে গিয়েই খোঁজ পাওয়া যায় রাজীব কুমারের ফ্ল্যাটের।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্যাগের মধ্যে অর্ধদগ্ধ অবস্থায় ওই যুবতীর দেহ উদ্ধার হয়। ব্যাংক ম্যানেজার ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। যুবতীর দেহের ভিসেরা পরীক্ষা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
যুবতীর পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য রাজীব কুমার ১ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন যুবতীর কাছ থেকে। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। তার জেরেই শিল্পাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজীব কুমারের স্ত্রী মনীষা ফ্ল্যাটে ছিলেন না। সেইসময় সেখানে যান ওই যুবতী। শুধু কি টাকার জন্যই সংঘাত? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?
পাশাপাশি ওই অ্যাপার্টমেন্টে ৯ তারিখে ঢোকার কোনও রেজিস্টারে যুবতীর নাম নথিভুক্ত করা নেই। খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে যেখানে নথিভুক্ত করার কথা, সেখানে কেনও নাম নথিভুক্ত করা হলো না কেন?
এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।