শুক্রবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও

 জিয়া উল ইসলাম :


বিমানের ধারণা আসে মূলত রাইট ভ্রাতৃদয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অরভিল এবং উইল্ভার রাইট প্রথম মানুষের ভাসমানের সম্ভাব্যতা নিয়ে পরীক্ষা চালান। আর বাণিজ্যিকভাবে ১৯১১

সালে এরোপ্লেন আবিষ্কার করা হয়। কিন্ত অরভিল যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ারে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেট আর্মি চত্বরে ১৯০৮-এর সেপ্টেম্বর সফলভাবে বিমানের সাহায্যে আকাশে ওড়েন। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর তিনি একাকী এক ঘণ্টা ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড একটানা ভ্রমণ করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট টমাস সেলফ্রিজকে অবজারভার হিসেবে সঙ্গে নিয়ে আকাশে ওড়েন। কিন্তু এদিন একশ ফুট ওপর দিয়ে কয়েক মিনিট ওড়ার পর বিমানের প্রোপেলার ফেটে যায় এবং বিমানটি কাঁপতে থাকে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পরে। সেলফ্রিজের মাথায় আঘাত লাগে এবং তিনি মারা যান। সেটিই ছিল বিমান দুর্ঘটনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা এর পর থেকে নিয়মিত ঘটছে বিমান দুর্ঘটনা এবার সেই সব কথা নিয়ে লিখেছেন জিয়া উল ইসলাম

বিশ্বে যত বিমান দুর্ঘটনা

যাতায়াতের নিরাপদতম মাধ্যম হিসেবে বিমান বা উড়োজাহাজকে বিবেচনায় করা হয়। কিন্তু চলতি বছরে ভয়ংকর সব বিমান দুর্ঘটনা ঘটছে বারবার। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মধ্যাঞ্চলের ইস্পাহানে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬৬ জন যাত্রী নিহত হন। ইরানের দুর্ঘটনার কিছুদিন আগেই ১১ ফেব্রুয়ারি রাশিয়াতে সারাতোভ এয়ারলাইন্সের এ-১৪৮ বিমানটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনাতে ৭০ জন নিহত হয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন ও কোস্টারিকাতে ১২ জন নিহত হয়েছে।
এর আগেও শত শত মানুষ একসঙ্গে বিমান দুর্ঘটনাতে প্রাণ হারিয়েছে। ইতিহাস এরকম ভয়ংকর সব বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। বলা হয়ে থাকে বিমানের ত্রুটির কারণে নয় মূলত পাইলটের ভুলের কারণেই ৮০ শতাংশ বিমান দুর্ঘটনাতে পরে থাকে। আবার দক্ষ বিমান চালকের কৌশলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন এমন নজিরও কম নেই। ইতিহাসে ঘটে যাওয়া এমনই কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হলো। ১৯৭৭ সালের ২৭ মার্চ টেনেরিফ দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ বিমানবন্দরের রানওয়েতে দুটি বোয়িং উড়োজাহাজের সংঘর্ষ হলে ৫৮৩ জন যাত্রী নিহত হন। ওই ঘটনায় ৬১ জন প্রাণে বেঁচে যান।
১৯৮৫ সালের ১২ আগস্ট জাপানের ইউয়েনো এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি উড়োজাহাজ গিরিখাতে বিধ্বস্ত হয়।
এই দুর্ঘটনাতে নিহত হন ৫২০ জন। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে কাজাখস্তান এয়ারলাইনসের আরেকটি উড়োজাহাজের মধ্য আকাশে সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনাতে ৩৪৯ জন নিহত হন।
১৯৭৪ সালের ৩ মার্চের ফ্রান্সে উড়োজাহাজের পেছনের কার্গোর দরজা ভেঙে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনাতে আরোহীদের ৩৪৬ জনের সবাই নিহত হন।
বিগত বছরগুলোতে বিমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমান পূর্বের যে কোনো সময়ের থেকে এখন বেশি নিরাপদ বলে দাবি করা হয়েছে। তারপরও বিমান দুর্ঘটনা থেমে থাকেনি। ২০০৯ সালে ফ্রান্সের রিও ডি জেনারিও থেকে প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর থেকে ফ্লাইট ৪৪৭ নিখোঁজ হয়। ওই ফ্লাইটে ২২৮ জন যাত্রী ছিল। ২০১৪ সালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ‘ফ্লাইট এমএইচ ৩৭’ নিখোঁজ হয়ে যায়। তারপর বিমানের ২৩৯ জন যাত্রীর সবাইকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ওই বছরই জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার বিমান এমএইচ ১৭ মোট ২৮৩ জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে ৮০ জন শিশু ছিল।

বাংলাদেশের যত বিমান দুর্ঘটনা

বিমান দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিশ্বে ভয়াবহ অনেক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন কারণে। বিমান দুর্ঘটনায় অসহায়ের মতো সমর্পণ ছাড়া যেন কিছুই করার থাকে না। পাইলট-ক্রুরা হয়ে পড়েন নিরুপায়। বাংলাদেশের কয়েকটি বিমানের ভাগ্যেও জুটেছে এমন ঘটনা। তেমন কিছু আলোচিত বিমান দুর্ঘটনা—

১৯৮৪ সাল : ১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে অবতরণ করার সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফকার এফ২৭-৬০০ বিমানটি বর্তমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি জলাভূমির মধ্যে ক্র্যাশ করে। বিমানটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিমানবন্দর থেকে পূর্বনির্ধারিত ঘরোয়া যাত্রী ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। এতে চারজন ক্রু ও ৪৫ জন যাত্রীসহ সবাই নিহত হন।

১৯৯৭ : ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ফকার এফ২৮-৪০০০ মডেলের বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৬০৯ ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিল। সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় কুয়াশার কারণে রানওয়ের পাদদেশ থেকে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে উমাইরগাঁও নামক স্থানের একটি ধানক্ষেতে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১৭ জন যাত্রী অহত হন।

২০০৪ : ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর আবারও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা ঘটে। এটিও ১৯৯৭ সালে দুর্ঘটনার কবলে পড়া বিমানের মডেলের অনুরুপ ফকার এফ২৮-৪০০০ মডেল। সেদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৬০১ ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিল। অবতরণের পর রানওয়ে ভেজা থাকার কারণে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে খাদে পড়ে যায়। এতে ৭৯ জন যাত্রী ও চারজন ক্রুর মধ্যে দুজন যাত্রী আহত হন।

২০১৫ : ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে সিলেট বিমানবন্দরের রানওয়েতে আরেক দফা দুর্ঘটনা ঘটে। সেদিন দুবাই থেকে সরাসরি আসা উড়োজাহাজে ২২০ জন যাত্রী ছিলেন। ওই সময় বিজি-৫২ বিমানের ডানদিকের ইঞ্জিনের ভেতর পাখি ঢুকে পড়ে। তখন চারটি বেড ভেঙে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। সেদিন সকাল ৭টায় রানওয়েতে অবতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ৯ মার্চ কক্সবাজারে একটি কার্গো বিমান বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় পাইলটসহ তিনজন নিহত হন। উড্ডয়নের পাঁচ মিনিটের মাথায় সাগরে আছড়ে পড়ে বিমানটি।

২০১৮ সাল : ২০১৮ সালের ১২ মার্চ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রুবাহী বিমান বিধ্বস্তে ৫৭ জন নিহত হয়।

বিমানের শেষ ঠিকানা ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে এর আগেও আরো বহু বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। পাহাড় ঘেরা এই বিমানবন্দরটি কাঠমান্ডু উপত্যকায এবং শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে। বিমানবন্দরটিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো বিমান অবতরণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বলা হচ্ছে, এসব দুর্ঘটনায় ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিমানের পাশাপাশি সেখানে হেলিকপ্টারও বিধ্বস্ত হয়েছে।
নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু হওয়ার কিছু দিন পরই একটি দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৭২ সালের মে মাসে। থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান অবতরণ করার সময় রানওযে থেকে ছিটকে পড়ে। তাতে ১০০ জনের মতো যাত্রী ও ১০ জন ক্রু ছিলো। তাদের একজন নিহত হয়েছে।১৯৯২ সালে থাই এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস অবতরণ করার জন্যে বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১১৩ জন যাত্রীর সকলেই নিহত হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হয় আরো একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা। পিআইএর বিমানটি বিধস্ত হলে বিমানের ভেতরে থাকা ১৬৭ জনের সবাই প্রাণ হারায়।
১৯৯৫ সালে রয়্যাল নেপাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বেষ্টনী ভেঙে মাঠের ভেতরে ঢুকে যায়। তাতে দু’জন নিহত হয়।
লুফথানসার একটি বিমান এয়ারপোর্ট থেকে উড়ান শুরু করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। তাতে পাঁচজন ক্রু সদস্য নিহত হয়। এটি ঘটেছিলো ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে।
ওই একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নেকন এয়ারের একটি বিমান ত্রিভুবন বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একটি টাওয়ারের সাথে সংঘর্ষে কাঠমান্ডু থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি অরণ্যে বিধ্বস্ত হয। এতে ১০ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রুর সবাই নিহত হন।
২০১১ সালে বুদ্ধ এয়ারের একটি বিমান বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় দুর্ঘটনায ১৯ জন আরোহীর মধ্যে একজন শুরুতে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হলেও পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মারা যান। বলা হয় খারাপ আবহাওয়া ও নিচুতে থাকা মেঘের কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিলো।
২০১২ সালে সিতা এয়ারের একটি বিমান উড্ডয়নের পরপরই সম্ভবত একটি শকুনের সাথে ধাক্কা খাওয়ার পর বিধ্বস্ত হয়। এতে ১৯ জন আরোহীর সবাই মারা যান।
২০১৫ সালে তুর্কী এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ঘন কুয়াশার মধ্যে নামতে গিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়ে। ৩০ মিনিট ধরে এটি বিমানবন্দরের উপর উড়তে থাকে। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় নামতে পারলেও সেটি রানওয়ের থেকে ছিটকে মাঠের ঘাসের উপর চলে যায়। ২২৭ জন যাত্রীকে সেখান থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
২০১৭ সালের মে মাসে সামিট এয়ারলাইন্সের একটি বিমান,আর সর্বশেষ দুর্ঘটনার শিকার হলো ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি।

বিশ্বের যত ভয়াবহ বিমানবন্দর

ম্যাটেকেইন এয়ার স্ট্রিপ, আফ্রিকা
রানওয়েতে খানিক দূর গিয়ে তারপর আস্তে আস্তে আকাশে ওড়ে বিমান। পাইলটরা রানওয়েতে নির্দিষ্ট দূরত্বের চেয়েও অনেক সময় বিমানকে এগিয়ে নিয়ে তারপর আকাশে ওড়েন। কিন্তু এ বিমানবন্দরে এমন কাজ মোটেই সম্ভব নয়। এমনকি সম্পূণরুপে খেয়াল রাখলেও থাকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সি আইস রানওয়ে, অ্যান্টার্কটিকা
বিমানবন্দর মানেই পিচঢালা মসৃণ রানওয়ে। কিন্তু অ্যান্টার্কটিকার এ বিমানবন্দরে এর কিছুই নেই। এখানে পুরো বিমানবন্দরটি বরফের ওপর। আর রানওয়েও বরফের। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ভারী বিমান বা চাপ দিলেই ভেঙে যেতে পারে বরফখন্ড। তার চেয়েও বড় কথা, পিচ্ছিল বরফের উপরেই ল্যান্ড করতে হয় বিমানকে।

ব্যাররা, স্কটল্যান্ড
রানওয়ের পাশে সমুদ্র। প্রাকৃতিক এ বিমানবন্দরটি দেখতে খুব সুন্দর হলেও এখানে বিমান অবতরণ করানো অত্যন্ত ভয়ংকর ও বিপজ্জনক। রানওয়েটি সমুদ্রতীরে অবস্থিত। এখানে তখনই বিমান নামানো হয় যখন ভাটার সময় সমু্দ্েরর পানি কিছুটা নিচে নেমে যায়।

প্রিন্সস জুলিয়ানা এয়ারপোর্ট, ক্যারিবিয়ান
ক্যারিবীয় দ্বীপ সেন্টমার্টিনের সৈকতের পাশে অবস্থিত এ বিমানবন্দর। সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের একেবারে মাথার ওপর দিয়ে রানওয়েতে বিমান নামাতে হয় পাইলটকে। আর এতে সৈকতে থাকা পর্যটকরা আনন্দ পেলেও রয়েছে ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা।

কঙ্গোনহাস, সাও পাওলো, ব্রাজিল
সাধারণত বিমানবন্দর থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত উঁচু ভবন করতে দেয়া হয় না। কিন্তু ব্রাজিলের এ বিমানবন্দরের চারপাশে রয়েছে উঁচু উচু ভবন। আর এ জন্য এখানে বিমান অবতরণের ক্ষেত্রে বিমানকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রানওয়েতে নামাতে হয়। এ কারণে বিশ্বের বিপজ্জনক বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে অন্যতম এটি।

কোউরকেভ্যাল, ফ্রান্স
ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালার ১ হাজার ৭২২ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এ বিমানবন্দরটি। আর এটির রানওয়েও পর্বতের শেষে এসে শেষ হয়েছে। ঢেউয়ের মতো ঢালু রানওয়েতে বিমান নামাতে গেলে অত্যন্ত অভিজ্ঞ হতে হয় পাইলটকে। একটু বেখায়াল হলেই ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

ফাঞ্চাল, ম্যাডেরিয়া
পাহাড়ের পাদদেশে সমুদ্রের পাশে অসংখ্য পিলারের ওপর তৈরি এ বিমানবন্দরের রানওয়ে। বিমান অবতরণে অত্যন্ত দক্ষ না হলে দুর্ঘটনা ঘটা খুব সহজ। আর এর রানওয়ের দূরত্বও অত্যন্ত অল্প।

তেনজিং-হিলারি, নেপাল
৯ হাজার ফুট উচ্চতায় হিমালয়ের একটি পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে এই বিমানবন্দর। সবচেয়ে ভয়ানক কথা, একটি বিমানবন্দরের রানওয়ে যতটুকু হওয়া দরকার তার মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ জায়গা রয়েছে এই বিমানবন্দরে।

সাবা আইল্যান্ড এয়ারপোর্ট, ক্যারিবিয়ান
হানিমুনের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই স্থানটির একটি মাত্র সমস্যা- বিমানবন্দরের রানওয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট এই রানওয়ের তিন পাশে সমুদ্র এবং এক পাশে পাহাড়।

কাই তাক এয়ারপোর্ট, হংকং
শহরের পাশে সমুদ্রের মধ্যে খুব বিপজ্জনকভাবে তৈরি এ বিমানবন্দর। এক জরিপে বিশ্বের ষষ্ঠ বিপজ্জনক বিমানবন্দর নির্বাচন করা হয়েছিল কাই তাককে। এ জন্য বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এ বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

 ব্ল্যাক বক্স

ব্ল্যাক বক্স আসলে কি ?
প্রথমেই বলা ভালো, ব্ল্যাক বক্স নামে ডাকা হলেও এর আসল নাম হলো ফ্লাইট রেকর্ডার। যেটি বিমান চলাচলের সর্বশেষ সব তথ্য রেকর্ড করে রাখে।এভিয়েশন বা বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা কিন্তু এটিকে ব্ল্যাক বক্স নামে ডাকেন না, তারা বলেন ফ্লাইট রেকর্ডার। নামে ব্ল্যাক বক্স কিন্তু আসলে কালো কোন বস্তু নয়। বরং এর রং অনেকটা কমলা ধরণের।এটি অত্যন্ত শক্ত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বাক্স, যা পানি, আগুন, চাপ বা যেকোনো তাপমাত্রায় টিকে থাকে।এটি দুইটি অংশের সমন্বয়ে আসলে একটি ভয়েস রেকর্ডার। বিমান চলাচলের সময় সব ধরণের তথ্য এটি সংরক্ষণ করে রাখে।এর মধ্যে দুই ধরণের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। একটি হলো ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার বা এফডিআর, যেটি বিমানের ওডা, ওঠানামা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় নিজের সিস্টেমের মধ্যে রেকর্ড করে রাখে।ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামের আরেকটি অংশে ককপিটের ভেতর পাইলদের নিজেদের মধ্যের কথাবার্তা, পাইলটদের সঙ্গে বিমানের অন্য ক্রুদের কথা, ককপিট এর সঙ্গে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমান বন্দরের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড হতে থাকে।

ব্ল্যাক বক্স থেকে পাওয়া তথ্য
ফলে কোন বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে এই ব্ল্যাক বক্সটি খুঁজে বের করাই হয়ে পড়ে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কারণ এটি পাওয়া গেলে সহজেই ওই দুর্ঘটনার কারণ বের করা সম্ভব হয়।বাক্সটির বক্স উজ্জ্বল কমলা হওয়য় সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। সমুদ্রের তলদেশেও ৩০দিন পর্যন্ত ব্ল্যাক বক্স অক্ষত থাকতে পারে।

ব্ল্যাক বক্সের আবিষ্কার
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ ধরণের যন্ত্র তৈরির উদ্যোগ প্রথম নেয়া হয়। তবে সত্যিকারের ব্ল্যাক বক্সের কাজ শুরু হয় ১৯৫০এর দশকের গোড়ার দিকে। অস্ট্রেলীয় সরকারের এয়ারোনটিকাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট ডেভিড ওয়ারেন এটি আবিষ্কার করেন। ১৯৬২ সালের ২৩শে মার্চ প্রথম অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমানে পরীক্ষামূলক ভাবে এটির ব্যবহার করা হয়।

দুর্ঘটনার পরেও কিভাবে টিকে থাকে ব্ল্যাক বক্স?
এটি অত্যন্ত শক্ত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়। কয়েকটি লেয়ার দিয়ে এটি এমনভাবে তৈরি করা হয যে, প্রচন্ড উত্তাপ, ভাঙচুর, পানি বা প্রচন্ড চাপের মধ্যেও সেটি টিকে থাকতে পারে। স্টেইনলেস স্টিল বা টাইটানিয়ামের খোলস দিয়ে বক্সের আবরণ তৈরি করা হয়। টিকে থাকার অনেকগুলো পরীক্ষায় পাস করার পরেই ব্ল্যাক বক্সগুলোকে বিমানে সংযোজন করা হয়।

ব্ল্যাক বক্স কিভাবে তথ্য পায়?
আধুনিক ব্ল্যাকবক্সগুলোয ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিমানের ফ্লাইট ডাটা ধারণ করে রাখতে পারে। এর ভেতর অনেকগুলো মেমরি চিপ পাশাপাশি সাজানো থাকে। এখানে তথ্য সরবরাহ করার জন্য বিমানের বিভিন্ন জায়গায় অনেক সেন্সর লাগানো থাকে। এসব সেন্সর অনবরত বিমানের গতি, তাপমাত্রা, সময়, ভেতর বাইরের চাপ, উচ্চতা ইত্যাদি বিমানের সামনের দিকে থাকা ফ্লাইট ডাটা অ্যাকুইজিশন ইউনিট নামের একটি অংশে পাঠাতে থাকে। সেখান থেকে সেসব তথ্য চলে যায় ব্ল্যাক বক্সের রেকর্ডারে। পাইলট, কো পাইলট, ক্রুদের বসার কাছাকাছি জায়গায় অনেকগুলো মাইক্রোফোন বসানো থাকে। তাদের সব কথাবার্তা, নড়াচড়া বা সুইচ চাপা ইত্যাদি সব এসব মাইক্রোফোনে রেকর্ড হতে থাকে। সেগুলো এ্যাসোসিয়েটেড কন্ট্রোল ইউনিট নামের একটি ডিভাইসে পাঠায। এরপর সেসব তথ্য ব্ল্যাক বক্সে গিয়ে জমা হয।

কিন্তু ব্ল্যাক বক্সে কত তথ্য থাকে?
আসলে বিমান চলাচলের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্ল্যাক বক্স তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে। মূলত শেষের দিকে তথ্য এটিতে জমা থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর আগের তথ্য মুছে যেতে থাকে আর নতুন তথ্য জমা হয। ফলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বশেষ তথ্য এটিতে পাওয়া যায়।

কিভাবে তথ্য উদ্ধার করা হয়?
ব্ল্যাক বক্সটি পাওয়ার পরেই বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী, বিমান সংস্থা, এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দল তৈরি করা হয়। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে তারা ব্ল্যাক বক্স থেকে তথ্য উদ্ধারের কাজটি শুরু করেন। বক্সের অবস্থার উপর নির্ভর করে কত তাড়াতাড়ি তথ্য পাওয়া যাবে। সেটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক সময় মাসের পর মাসও তথ্য উদ্ধারে সময় লেগে যায়। কারণ বিশেষজ্ঞদের খেয়াল রাখতে হয়, যাতে তথ্য উদ্ধার করতে গিয়ে কিছু মুছে না যায় বা মেমরি চিপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

ব্ল্যাক বক্সের শক্তি
একেকটি ব্ল্যাক বক্সের পাওযার বা শক্তির যোগান দেয দুইটি জেনারেটরের যেকোনো একটি। এসব সোর্স থেকে এই বক্সটি অব্যাহতভাবে শক্তির সরবরাহ পেয়ে থাকে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮