নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী মটকা মসজিদ নির্মিত হয়েছে প্রায় ২শ’ ১৮ বছর আগে। পুরনো এই মসজিদটি জরাজীর্ণ হওয়ায় বৃষ্টি হলেই গম্বুজ ছুঁয়ে পানি পড়ে। মাঝে মাঝে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে; ঝুঁকি নিয়ে নামাজ আদায় করতে হয় মুসল্লিদের। এদিকে বেশ কয়েকবার মেরামত করার পরও ঝুঁকি কমেনি। নামাজ আদায়ের সময় মসজিদের মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান হয় না। যে কারণে মসজিদের সামনের রাস্তা ও পাশের মাঠে নামাজ আদায় করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে এবার পুরনো আদলেই নতুন করে আধুনিক কারুকার্যে এ মসজিদটি নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) থেকে মসজিদটি পুননির্মাণের উদ্দেশ্যে ভাঙা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মসজিদটি নির্মিত হবে। এনিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও বিত্তবানদের সহযোগীতায় নির্মাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রাচীন এই মসজিদটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছে মুসল্লিরা। কুমিল্লার ইউনিটেক আর্কিটেক প্রকৌশলী ফার্মের ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমানের পরিকল্পনায় চলছে নির্মাণ কাজ। এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ মার্চ) বিকালে স্থানীয় মুসল্লিদের সাথে বলে জানা যায়, এলাকায় বসতি বেড়েছে। নামাজের সময় মসজিদে জায়গা হয় না। মসজিদটি জনগুরুত্বপূর্ন স্থানে থাকায় পথচারীরাও নামাজ আদায় করেন। এ সময় নামাজ আদায় করতে হয় মসজিদের পাশে মাঠে কিংবা রাস্তায়। মসজিদটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে এ ভোগান্তি দূর হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
জানা গেছে, ১২০৬ বঙ্গাব্দ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়ক সংলগ্ন মসজিদটি নির্মিত হয়। এতে একটি বিশাল আকৃতির গম্বুজ রয়েছে। যে কারণে এটি মটকা মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। যার ভিতর ৩০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। অন্য মুসল্লিদের মসজিদের বাইরে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নামাজ আদায় করতে হয় খোলা আকাশের নীচে। জুম্মার নামাজের সময় খোলা মাঠ ও রাস্তায় নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা। পুরনো আদলে আধুনিক কারুকার্যে মসজিদটি নির্মাণ করা হলে ৩০ জনের জায়গায় ২৭৫ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানান দায়িত্বরত প্রকৌশলী।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, পুরনো ঐতিহ্য ধারণ করে মসজিদটি পুননির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। কুমিল্লার ইউনিটেক আর্কিটেক প্রকৌশলী ফার্মের ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমানের পরিকল্পনায় মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। তাই প্রাচীন গম্বুজটি ভাঙা হচ্ছে। এতে একদিকে ঝুঁকির ভয় থাকবে না। অন্যদিকে ঐতিহ্য রক্ষায় গম্বুজটিকে আধুনিকভাবে নির্মাণ করা হবে।
ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান বলেন, ২’শ বছরের পুরনো মসজিদটিতে নামাজ আদায় করা মুসল্লিদের জন্য ঝুঁকিপুর্ণ। মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে নির্মাণ কাজ চলছে। প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক কারুকার্যে বৃহৎ আকারে গম্বুজটি নির্মাণ করা হবে।