বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

দেখে এলাম হযরত শাহ্জালাল, শাহ্পরান মাজার

মো. আলাউদ্দিন :

ঘুরে এলাম পুর্ণ ভূমি সিলেট হযরত শাহাজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার শরীফ। দুইজনে সম্পর্কে মামা ভাগিনা। আমি আর আমার ছোট ভাই আকরাম উদ্দিনসহ সাতজন মিলে গত সোমবার রাতে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হই। মঙ্গলবার ভোরে যখন সিলেটে পোঁছি তখন চারদিকে ফযরের আযানের সু-মধুর ধ্বনী। তখন আমরা সবাই একটি ম্যাক্সি করে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদ গিয়ে ফযর নামাজ জামাতের সহিত আদায় করি। পরে আমরা মসজিদ থেকে বের হয়ে মাজার জেয়ারত করি। তখন শুরু হয় বৃষ্টি।

যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন হযরত শাহাজালাল (রহ.) তার পশ্চিম পার্শ্বে আছে অনেকগুলো গণকবর। প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ সিলেট আসেন। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জেয়ারত করতে। হযরত শাহজালাল (র:) ছিলেন, উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তাঁকে ওলিকুলের শিরোমনি অভিধায় আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। সিলেট অঞ্চলে তাঁর মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিনের ওপর রাজা গৌর গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। শাহজালাল (রহ.) এর মাজার চত্বরের উত্তরদিকে রয়েছে একটি পুকুর। এই পুকুরে আছে অসংখ্য গজার মাছ। আমরাসহ অনেক দর্শনার্থী এসব বড় বড় গজার মাছ পুকুরে ভেসে বেড়ানো দেখে সবাই আনন্দ পায়। হযরত শাহজালাল (র:) এর আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পেয়ে হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (র:) তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেন। প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ তিনি তাঁকে একজোড়া সুরমা রঙের কবুতর বা জালালী কবুতর উপহার দেন। সিলেট ও এর আশপাশের অঞ্চলে বর্তমানে যে সুরমা রঙের কবুতর দেখা যায় তা ওই কপোত যুগলের বংশধর এবং জালালী কবুতর নামে খ্যাত। শাহজালালের মাজার এলাকায় প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতর উড়তে দেখা যায়। সিলেটের জনমানসে এই কবুতর নিয়ে অনেক জনশ্রুতি আছে। শাহজালাল এর মাজারের পাশেই রয়েছে একটি কূপ। এই কূপে সোনা ও রূপার রঙের মাছ দেখতে পাই। চারপাশ পাকা এই কূপে দিনরাত পানি প্রবাহিত হয়।

মাজারের পশ্চিম দিকে গেলে ঝর্ণা দেখতে পাওয়া যায়। ঝর্ণা পানি বোতল ভর্তি করে বিক্রি করতে দেখা যায়। মাজারের পূর্ব দিকে একতলা ঘরের ভেতরে বড় তিনটি ডেকচি রয়েছে। এগুলো ঢাকার মীর মুরাদ দান করেছেন। ডেকচি গুলোতে রান্না বান্না হয়না। পূণ্যের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ডেকচি গুলোতে প্রচুর টাকা পয়সা দান করে থাকেন। মাজারের দক্ষিণ দিকে গ্রীলঘেরা তারকা খচিত ছোট্ট ঘরটি হযরত শাহজালাল (রহ.) চিল্লাখানা আছে। জিজ্ঞাসা করলে অনেকে বলে হযরত শাহজালাল এই চিল্লাখানায় জীবনের ২৩ বছর আরাধনায় কাটিয়েছেন। দরগার পার্শ্ববর্তী মুফতি নাজিমুদ্দিন আহমদের বাড়িতে হযরত শাহজালালের তলোয়ার ও খড়ম সংরক্ষিত আছে সেখানে যেয়ে তা দেখি । পরে প্লেট ও বাটি সংরক্ষিত আছে দরগাহ’র মোতওয়াল্লির বাড়িতে তা দেখে আসি।

দুপুরে জোহরের নামাজ আদায় করে আমরা রওনা দিই হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার দেখতে। সিএনজি নিয়ে আমরা হযরত শাহ পরাণ (রঃ) এর মাজার শরীফ যাই। হযরত শাহজালাল (রঃ) এর আদেশে নাকি সিলেট থেকে ছয় মাইল দূরে খাদিম নগরস্থানে আবাস নির্মাণ করে ইসলামের দাওয়াত জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চালিয়ে যান এবং সেখানে হযরত শাহ পরান (রহ.) চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। সেখান থেকে  প্রায় ২ কিলেমিটার দূরে সাত রংঙ্গের চা খেতে যাই। সাত রংঙ্গের চায়ের সাধ সাত রকমের। এক রংঙ্গের সাথে আরেক রং মিশেনা। তার পর নোয়াখালীর উদ্দেশ্য রওয়ানা হই।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০