নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে কলেজ ছাত্র দীপ্ত পাল হত্যা মামলায় ১৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। ১৮ এপ্রিল বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুল হুদা তালুকদার এ রায় দেন। এরআগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী গ্রামে ২০১১ সালে ডাকাতিকালে দীপ্তকে গুলি করে হত্যা করে ডাকাতরা। রায়ের সময় আদালতে ৫ আসামি উপস্থিত ছিলেন, অন্যরা পলাতক রয়েছে।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা গ্রামের মাঈন উদ্দিন মানু, রামগঞ্জের লামচর গ্রামের মো. রশিদ, কামরুল ইসলাম রাজু, কালুপুর গ্রামের মো. হোসেন, রসুলপুর গ্রামের সালেহ আহমেদ সুজন, মাঝিরগাঁও গ্রামের সাইফুল ইসলাম সুমন, করপাড়া গ্রামের কামাল, মঞ্জুর আলম, গাজীপুর গ্রামের মহসিন, বদরপুর গ্রামের কামাল হোসেন, পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিলন হোসেন, মো. ফারুক, সদরের চর লামচী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের সাহেদুর রহমান কিরণ ও উত্তর বাঞ্চানগর গ্রামের অহিদুর রহমান।
তাদের মধ্যে কামরুল ইসলাম রাজু, জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল ইসলাম সুমন, অহিদুর রহমান ও কামাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মামলার আসামি সুজন মারা গেছেন। অপর ৮ দন্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক রয়েছেন।
আদালত সুত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের জুলাই মাসের ২ তারিখ রাতে সদর উপজেলার মধ্য হামছাদী গ্রামে ডাকাতিকালে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্ত পালকে গুলি করে হত্যা করে ডাকাতদল। এ ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা কার্তিক পাল বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। পুলিশ ২০১৩ সালের মার্চের ৩ তারিখে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তদের মধ্যে সুজন নামের একজন মারা যায়। আদালত ২২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানী শেষে ১৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দেন।
লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে মামলার বাদি এ রায়ের অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
এএইচ/এবি