মঙ্গলবার ৩রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

তারেক এখন বাংলাদেশের নাগরিক নন : বললেন আইনমন্ত্রীও

আকাশবার্তা ডেস্ক :


আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট সমর্পণ করে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এখন আর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেই।

পাসপোর্টের সঙ্গে নাগরিকত্বের সম্পর্ক নেই পাসপোর্ট অধিপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ রেজওয়ানের এমন ব্যাখ্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকার তারেক রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে।

আনিসুল হক বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) যদি বলে থাকেন আমি পাসপোর্ট সারেন্ডার করে দিলাম, আমি থাকতে চাই না- এর মানেটা কী? আমি বাংলাদেশি পাসপোর্ট রাখতে চাই না, তাহলে এখানে তার আইডেন্টিটিটা কী?’

‘যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি (তারেক রহমান) বাংলাদেশের পাসপোর্টে ছিলেন ততক্ষণ পর্যন্ত তার আইডেন্টিটি ছিল বাংলাদেশের একজন নাগরিক। যেখানে তিনি স্বেচ্ছায় বলছেন, আমি আমার বাংলাদেশি পাসপোর্টটা সারেন্ডার করে দিলাম। যখন তিনি ট্রাভেল ডকুমেন্টটা (পাসপোর্ট) সারেন্ডার করে দেন, তখন কি বলা যাবে তিনি তখনও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রেখে দিয়েছেন?’

তার মানে কি আমরা বলতে পারি কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে তিনি আর বাংলাদেশের নাগরিক নন?- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক তো নয়ই, উনি (তারেক রহমান) পাসপোর্ট ইয়ে (সারেন্ডার) করে দিয়েছেন।’

‘পাসপোর্ট সারেন্ডার করার পর তিনি যখন বিদেশে গেছেন, তখন ব্রিটিশ সরকারের একটা ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে গেছেন। এর মানে এই নয়কি যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সারেন্ডার করেছেন? অফকোর্স (অবশ্যই)।’

পাসপোর্টের সঙ্গে নাগরিকত্বের সম্পর্ক জানতে চাইছে আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে থাকলে আপনার যদি পাসপোর্ট না থাকে তবে কিন্তু নাগরিকত্ব এফেক্টেড হয় না। পাসপোর্ট জিনিসটা কি, এটা একটা ট্রাভেল ডকুমেন্টের মতো, বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট প্রয়োজন হয়। বাইরে গেলে আপনি যে বাংলাদেশের নাগরিক সেটার আইডেন্টিটি।’

‘আমি যতটুকু তথ্য জানি, যে বিতর্ক হচ্ছে এর থেকে আমি যে তথ্য জানতে পেরেছি তা হচ্ছে- একজন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসাসি তারেক রহমান। তিনি ইউনাইটেড কিংডমে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করার জন্য তার পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। এর মানে তিনি বলেছেন আপাতত আমি বাংলাদেশের নাগরিক থাকতে চাই না। আমি এই পাসপোর্টটা সারেন্ডার করলাম, আপনারা আমাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তার (তারেক রহমান) স্ট্যাটাস হচ্ছে তিনি ব্রিটেনের রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। ইউনাইটেড কিংডম আশ্রয় দিয়েছে কি-না সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। যদি দিয়ে থাকে ভালো কথা, না দিয়ে থাকলে তা আমি জানি না। তিনি চেয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ডিনাই (প্রত্যাখ্যান) করেছেন। কিন্তু তার মানে এই না ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হতে চাইলে পারবেন না। এটা তো নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফরে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইবার কথা বলেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বন্দী বিনিময় মুক্তি নেই। তাহলে তাকে সরকার কীভাবে তাকে ফিরিয়ে আনবে- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে অপরাধ করেছেন, তখন তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। এটা ঠিক যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (বন্দী বিনিময় চুক্তি) নেই। কিন্তু এক্সট্রাডিশন ট্রিটি করতে কিন্তু কোন বাধা নেই। আমরা সেই রকম আলাপ-আলোচনাও করছি।’

‘দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, এটা আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিটেন্স অ্যাক্ট আমাদের দেশে হয়েছে। এই আইনটি করার প্রয়োজনীয়তা ছিল জাতিসংঘের একটি নির্দেশনার কারণে। জাতিসংঘের যেসব সদস্য আছে তাদের মধ্যে এই আইনটি থাকলে ট্রান্স বর্ডার অপরাধ বা যে কোনো অপরাধী এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যায় তাকে যেন ধরে আনার সুবিধাটা থাকে। এজন্য এই আইনটি করা হয়েছে।’

‘জাতিসংঘ যখন এই আইনটি করার জন্য সকল দেশকে পরামর্শ দেয়, তখন উদ্দেশ্য এটাই ছিল বলে তারা বলেছে। কারণ আজকাল অনেক ট্রান্সবর্ডার ট্রান্সন্যাশনাল ফৌজদারি অপরাধ ঘটে যাচ্ছে। এজন্য তারেক রহমান যদি বাংলাদেশের নাগরিক এখন নাও থাকেন তাহলেও লিগ্যাল অ্যাসিটেন্স অ্যাক্টের আন্ডারে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব।’

তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও তার টেলিফোন কথপোকথনসহ বিভিন্ন বিষয় প্রচার করা হচ্ছে। এতে আদালত অবমাননা করা হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘হাইকোর্টের অর্ডার যদি অমান্য করা হয় তাহলে নিশ্চয়ই সেটা আদালত অবমাননা হবে। সেক্ষেত্রে আমি সবাইকে আদালতের নির্দেশটি পালন করার অনুরোধ করছি।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি ও বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ কে এম ফাহিম মাসরুরকে গ্রেপ্তার ও পরে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘এসব অভিজ্ঞতা আমাদের সকলকে শেখায়। গতকালকের এ অভিজ্ঞতার থেকে আমি যেটা শিখেছি, সেটা আমি নিশ্চয়ই আমাদের আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।’ ‘এরকম যদি কোনো অভিযোগ বা তথ্য পান তারা যেন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে ব্যাপারটা সঠিক কি না সেটা যেন অনুসন্ধান করে।’

‘৫৭ ধারায় যদি কেউ মামলাও করেন, তাহলে পুলিশের আলাদা একটি সেল আছে। যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। সুনিশ্চিত হয়ে যেন মামলা রুজু করেন এবং তারপর গ্রেপ্তার করার পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর আগে এরকম ভুল হওয়াটা কিন্তু সরকারের কাম্য নয়।’ ‘এরকম ভুল যদি পরে হয় তাহলে আমি পুলিশ এবং অনান্য আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, সেটা যদি কোনো ব্যক্তি করেন তার বিষয়ে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকার পে-অর্ডার জমা দেওয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মোহাম্মদ শাহজাহানকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ নয় বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন তারেক রহমান। সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি লন্ডনে যান। এর পর থেকে তিনি সেখানে অবস্থান করেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে সংগঠনটিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান।

সূত্র : এএইচ/আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১