আকাশবার্তা ডেস্ক :
আমার একটা নদী ছিল জানল না তো কেউ, নদীর জল ছিলনা, কূল ছিলনা ছিল শুধু ঢেউ। গানের কলিটি লেখার কারণ, নদীর স্বচ্ছ জল অনেকটা ঘোলা করে অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন, লক্ষ্মীপুরে আলোচিত প্রেমিক যুগল নিলু-মজিব। বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে জেলা জজকোর্টের পিপি এ্যাড. জসীম উদ্দিনের হ্যাপি রোডেস্থ ব্যক্তিগত চেম্বারে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে নিলু-মজিবের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় মিডিয়া কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য ভিতরে ঢুকতে চাইলেও কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে আলোচিত নিলু-মজিবের বিয়ের বিষয়টি বুধবার রাতে ফেসবুক পেইজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, বিবাহ অনুষ্ঠানে কনে ফাতেমাতুজ জোহরা নিলুকে সোনার আংটিসহ স্বর্ণালংকার উপহার দেন প্রেমিক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমান।
লক্ষ্মীপুর জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. জসীম উদ্দিন মুঠো ফোনে নিলু-মজিবের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
অবশেষে নিলু-মজিবের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় আরো একটি গানের কলি মনে পড়ল। প্রেমের মরা জলে ডুবেনা, ও প্রেম গড়তে দুদিন, ভাঙতে একদিন এমন প্রেম আর কইরো না স্বজনী।
জানা যায়, দিঘলী ইউনিয়নের পশ্চিম দিঘলী গ্রামের পাঠান বাড়ির মৃত শামসুল হক খাঁনের পুত্র শেখ মজিবুর রহমানের সাথে একই ইউনিয়নের পূর্বদিঘলী গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা নিলুর মধ্যে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক শুরু হয় ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে। ভালোবাসার সূত্র ধরে দু’জনে অতি কাছাকাছি আসলেও জীবনটাকে ঘুঁচিয়ে নিয়ে নিলুকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয় প্রেমিক শেখ মজিব।
শেষমেষ বিগত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভের পর নিলুকে বিয়ে করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেও নির্বাচনে জয়লাভের পর বেঁকে বসেন তিনি। এরপর নানান তালবাহানা শুরু করেন শেখ মজিবুর রহমান। এতে গত ২৫ জানুয়ারী বিয়ের দাবিতে প্রেমিক চেয়ারম্যান শেখ মজিবের বাড়িতে অনশন করেন প্রেমিকা ফাতেমাতুজ জোহরা নিলু। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ও তার ভাই ফারুকসহ অন্যান্যরা মিলে নিলুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে আহত নিলুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত রোববার (২৯ জানুয়ারী) লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেমিক শেখ মজিবুর রহমানসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন প্রেমিকা ফাতেমাতুজ জোহরা নিলু। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জুডিসিয়াল তদন্তের আদেশ দেন। এ দিকে প্রেমিকা নিলুকে শারীরিকভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গণমাধ্যমে এবং তার নিজ এলাকায় ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। অবশেষে বুধবার রাতে প্রেমিক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমান প্রেমিকা ফাতেমাতুজ জোহরা নিলুকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে আইনগত ঝামেলা চুকাতে বাধ্য হন।