আকাশবার্তা ডেস্ক :
ডালপালা কাটার পর এবার পালা মাদকের গডফাদারদের। এই গডফাদারদের তালিকায় রয়েছে অন্তত ১৭১ জন মাদক ব্যবসায়ী। যাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাসহ তাদের ভাই ও সন্তানদের নাম রয়েছে। এরাই মূলত সারাদেশে নিয়ন্ত্রণ করে মাদক ব্যবসা ।
ইতিমধ্যেই তালিকা ধরে গডফাদারদের ধরতে মাঠে নামছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গডফাদারদের খোঁজে শুক্রবার র্যাব তছনছ করেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় মাদকের পাইকারি বাজার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, পুলিশ ব্লক রেইড দিয়েছে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় গতকালও ব্লক রেইড হয়েছে হাজারীবাগ ও তেজগাঁও রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে।
খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘অল আউট’ যুদ্ধ চলছে। ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নামের অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ী র্যাব-পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে এমন ছয়টি সংস্থার পৃথক তালিকা অনুযায়ী সব মিলিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১৪ হাজার। ওই তালিকা থেকে ৫০০ ব্যবসায়ীর তালিকা করেছে মন্ত্রণালয়। সমন্বিত এই তালিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছে র্যাব ও পুলিশ। এ তালিকায় অন্তত ১৭১ জন রয়েছেন মাদকের গডফাদার। এরাই সারাদেশে নিয়ন্ত্রণ এবং পৃষ্ঠপোষকতায় চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা। এদের মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা, তাদের ভাই ও সন্তানদের নাম। ৪ মে থেকে র্যাব এবং ১৮ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ক্র্যাশ প্রোগ্রামে বিভিন্ন পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও গডফাদাররা অধরা থেকে যাওয়ায় নানা প্রশ্ন ওঠে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সংস্থার তদন্তে যেসব ‘গডফাদার’ বা পৃষ্ঠপোষকের নাম এসেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদকের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। পাশাপাশি সীমান্তের যেসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক ঢুকছে তা বন্ধ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মাদক সিন্ডিকেটে থাকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এর সঙ্গে দেশের সবকটি বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে মাদক ব্যবসায়ীদের ছবিসহ তালিকা দিয়ে তাদের আইনের আওতায় নেওয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
একাধিক সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এক নেতার ছেলে নদীতে ড্রেজার জাহাজে ইয়াবা তৈরির মেশিন বসিয়েছেন। কাঁচামাল দিয়ে ইয়াবা তৈরি করে নদীপথেই ইয়াবা সরবরাহ করার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করেছে একটি সংস্থা। এ বিষয়টিও অবহিত করা হয়েছে, ঢাকা বিভাগের একটি জেলায় নদীপথে ট্রলারে এবং বালুবাহী লাইটারে (ছোট জাহাজ) করে আনা ইয়াবা আনলোড করার ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা করছেন তরুণ এক প্রভাবশালী নেতা। পাবনা জেলার ক্ষমতাসীন এক নেতার জনপ্রতিনিধি ভাই, সীমান্তবর্তী জয়পুরহাট জেলার এক প্রভাবশালী নেতার মাদকে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা এবং লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক নেতার মাদকের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষকে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তালিকায় কথিত গডফাদারদের নাম আছে কিনা তা আমার জানা নেই। যদি থেকে থাকে তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাদের গ্রেফতারে অভিযানের জন্য নির্দেশিত হবেন। তখন ওই অভিযানের ওপর মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।’
মাদকের বিরুদ্ধে একাধিকবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যই আমার বক্তব্য। ‘‘অল আউট যুদ্ধ’’ চলছে। মাদকের করাল গ্রাস থেকে দেশকে রক্ষা করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
জানা গেছে, মাদকের বিস্তার রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৫০০ জনের হিটলিস্টে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের নামও রয়েছে। শুরুতে ৫০০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেই তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : ডেইলি মিরর২৪