স্পোর্টস ডেস্ক :
নক আউট পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টারে উঠে চমক দেখালো সুইডেন। গতকাল সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে সুইডেন জয় পায় ১-০ গোলে। জয়সূচক গোলটি করেন ইমিল ফর্সবিগার খেলার ৬৬ মিনিটে। খেলার প্রথমার্ধে উভয় দলের একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ। সুযোগও তৈরি হয়েছে অসংখ্য। কিন্তু সুইজারল্যান্ড আর সুইডেনের ফুটবলাররা সম্ভবত মাঠে নেমেছিলেন গোল মিসের মহড়া দেওয়ার জন্যই। যার ফলে দু’দলের খেলায় তীব্র উত্তেজনা, প্রচ- গতি আর হাই প্রেসিং ফুটবল খেলা হলেও, কেউ কোনো গোল করতে পারেনি। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হলো গোলশূন্য সমতায়।
ম্যাচের সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি সুইডেন পেয়েছিলন ৪২ মিনিটে। কিন্তু সেই দারুণ সুযোগটির অপচয় করে ফেললো সুইডিশরা। নিশ্চিত গোলের সুযোগ। এমন সুযোগ আর কখনো তারা পাবে কিনা সন্দেহ। মিকায়েল লাসটিগ ক্রস দেন আলবিন একদালকে। সামনে গোলরক্ষকও নেই। একেবারে ফাঁকা পোস্ট। এমন সুযোগটা নষ্ট করেন একদাল, পায়ে বল লগাতে গিয়ে। বলের গতির কারণে সেটি সোজা উঠে গেলো আকাশে। ফল, পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে বলটি বাইরে। তার আগে পর পর দুটি দারুণ সুযোগ মিস করেছিল সুইজারল্যান্ড। ৩৮ মিনিটে কর্নার কিক থেকে বল নিয়ে ওয়ান-টু ওয়ান পাসে স্টিভেন জুবের আর জেমাইলি মিলে বল নিয়ে আসেন সুইডেনের পোস্টের সামনে। শেষ মুহূর্তে জেমাইলি একেবারে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বলটি পাঠিয়ে দিলেন বারের ওপর দিয়ে। সোজা শট নিতে পারলে, নিশ্চিত গোলের সুযোগ ছিল। ২ মিনিট পর আবারও দারুণ একটি সুযোগ। এবার জেমাইলি সেই সুযোগটি নষ্ট করে দেন। সুইডেনের জাল খুঁজে পেলো না তার শট। ম্যাচটা শুরু থেকেই উপভোগ্য হবে, এটা ছিল জানা কথা। কারণ, ইউরোপের সমশক্তির দুই দল মাঠে নেমেছে। একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে উঠবে- এটাই প্রত্যাশা ছিল সবার এবং হলোও সেটা। ম্যাচের একেবারে শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিয়েছে সুইডেন এবং সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোলের সুযোগ মিস করে সুইজারল্যান্ড। যদিও সুইডেন ডিফেন্ডাররা বল উপহার দিয়েছিল সুইজারল্যান্ডকে।
কিন্তু জাদরান শাকিরি বলটা পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। বল মেরে দিয়েছে অনেক বাইরে। ৭ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু স্টিভেন জুবেরের শট ঠেকিয়ে দেন সুইডেন গোলরক্ষক ওলসেন। ৮ মিনিটে সুইডেনের স্ট্রাইকার মার্কাস বার্গ ডান পাশ থেকে গোল লক্ষ্যে শট নিয়েছিলেন; কিন্তু তার শটটি চলে যায় পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে। এর খানিক পরই মার্কাস বার্গের আরেকটি বল ঠেকিয়ে দেয় সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্স। পরের মিনিটেই সুইডেনের আলবিন একদাল দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার ডান পায়ের শট চলে যায় পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে মিকায়েল লাসটিগ গোল লক্ষ্যে দারুণ এক শট নিয়েছিলেন। কিন্তু তার শট চলে যায় পোস্টের বাইরে। ২৪ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের স্টিভেন জুবের পেয়েছিলেন গোলের দারুণ এক সুযোগ।
জাদরান শাকিরির ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে হেড করেছিলেন জুবের। কিন্তু খুব কাছ থেকে নেয়া এই শট চলে যায় বাইরে। ২৮ মিনিটে মার্কাস বার্গ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাম পায়ের শটটি ফিরিয়ে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক। ৩২ মিনিটে আরও একবার সুযোগ পেয়েছিল সুইজারল্যান্ডের রিকার্ডো রদ্রিগেজ। কিন্তু তার বাম পায়ের শট চলে যায় অনেক বাইরে। ৩৪ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন গ্রানিত জাকা। কিন্তু এবারও তিনি বাম পায়ের শট পাঠিয়ে দিলেন পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে। খেলার শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৪) সুইজারল্যান্ডে মিশেল অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে রেফারি তাকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।