নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে ইয়াসমিন আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। সন্ধ্যায় পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি ঘটেছে, চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দত্তপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে। নিহত ছাত্রী ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ও সৈয়দপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, ফুফাতো ভাই প্রবাসী মো. রাশেদের সাথে স্কুলছাত্রী ইয়াসমিনকে বাল্যবিয়েতে রাজি হতে পারিবারিক চাপ সৃষ্টির কারণেই সে আত্মহত্যার পথ বেচে নেয়। কিন্তু ওই বিয়েতে রাজি ছিলনা ইয়াসমিন। বাবা ইসমাইল হোসেনসহ পারিবারিক চাপের জের ধরে গত সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে স্কুলছাত্রী ইয়াসমিন। ঘটনাটি দেখে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। দুপুরে নিহতের মরদেহটি নিজবাড়িতে আনা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
প্রবাসী মো. রাশেদ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের সমাষপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তিনি এরআগেও একটি বিয়ে করেছেন। প্রায় ৩ বছর আগে পারিবারিক কলহের জের ধরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
স্থানীয় মেম্বার মো. মিলনও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মেয়েটি সবেমাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। এরই মধ্যে ফুফাতো ভাইয়ের সাথে স্কুলছাত্রী ইয়াসমিনের বাল্যবিয়ে ঠিক করেন তার পরিবার। কিন্তু মেয়েটি কিছুতেই এ বিয়েতে রাজি হচ্ছিল না। একপর্যায়ে জোর করে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মেয়েটি বিষপানে আত্মহত্যা করে।
দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সৈয়দপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আহসানুল কবির রিপন বলেন, মেয়েটির বাবা ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন পড়ালেখার বিষয়ে বকাঝকা করায় সে বিষপান করেছে। কিন্তু স্থানীয়দের থেকে জানা গেছে, তার ফুফাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ের জন্য তাকে চাপ সৃষ্টি করায় বাধ্য হয়ে সে বিষপান করে।
দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।