আকাশবার্তা ডেস্ক :
“আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী নিশান”। আমার জীবনটাকে সে তছনছ করে দিয়েছে। আমার মা-বাবা ও ভাইদের আশার উপর হাত দিয়েছে। তাই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি আত্মহত্যা করলাম। সবাইকে বলিও আমি কাউকে কিছু বলে থাকলে ক্ষমা করে দিতে। আমার মাকে বলো আমার জন্য দোয়া করতে। আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। এমনই হৃদয় বিদারক একটি চিঠি লিখে আত্মহত্যার মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় বিবি সাজেদা। সাজেদা বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার মধ্য নাজিরপুর গ্রামের দুধ মিয়া বেগ বাড়ির জামাল বেগের মেয়ে ও মধ্য নাজিরপুর আজিজিয়া ইসলামিয়া দাখিল মহিলা মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ সাজেদার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
জানা যায়, ছাত্রী সাজেদা মাদ্রাসায় যাওয়া আসার সময় তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো একই এলাকার মধ্য নাজিরপুর গ্রামের লাল মিয়া বেগ বাড়ির আলী আহম্মদ হোরার ছেলে বখাটে নিশান (৩৩)। নিশান এক সন্তানের জনক। সাজেদা প্রতিবাদ করে অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয় নিশান।
ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে সাজেদাকে ঘরে একা পেয়ে বখাটে নিশান, স্থানীয় সহপাঠী মামুন ও ফারুকের সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এরপরই সাজেদা চিঠি লিখে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
খবর পেয়ে ওইদিন বিকালে বেগমগঞ্জ মডেল থানার এসআই শহিদ উল্যাহ নিহতের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত সাজেদার বাবা জামাল বেগ বাদি হয়ে নিশান ও তাদের দুই সহপাঠীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এলাকাবাসী ধর্ষক ও তাদের সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
ভিকটিমের মা রৌশন আরা বেগম জানান, যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ আলম মোল্লা জানান, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।