রবিবার ১লা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

নির্বাচনকে ঘিরে মাঠে নামছে জামিনে থাকা জঙ্গিরা!

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


নির্বাচন বানচালে সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও উগ্র জঙ্গিরা সংঘবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করছে। সারাদেশে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের জঙ্গিবাদবিষয়ক বিশেষায়িত ইউনিটগুলো কয়েক মাস আগে সারাদেশের জঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সূত্রে জানা গেছে। ওই প্রতিবেদনে ৪ হাজার ৩১ জঙ্গিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩০২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ১ হাজার ৩৪৬ জন জামিনে মুক্ত হয়েছে। আবার জামিনে মুক্ত হয়ে ২১৯ জন জঙ্গি আত্মগোপনে চলে গেছেন।

অপরদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির জঙ্গিরা আদালত থেকে জামিনে এসে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। জেএমবি ছাড়াও হরকত-উল-জিহাদ, হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলাটিম, জেএমবি ও নব্য জেএমবির সদস্যরা তৎপর হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ (সিটি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় গত রোববার অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির ৮ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রুহুল ওরফে আর্তুগ্রুল, মো. আলামিন, মো. হাফিজ ভূইয়া, সৈয়দ জাকারিয়া, মো. জসিম উদ্দিন, মো. মিজানুর রহমান ওরফে সুমন, শাহ আলম ওরফে সাইফুল্লাহ ওরফে সাকিব ওরফে আব্দুস সালাম ও মিলন হোসেন ওরফে তপন। এদের কাছ থেকে ১টি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সিটি সূত্র জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রুহুল ওরফে আর্তুগ্রুল সম্প্রতি নরসিংদীতে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত খাদিজা পারভীন মেঘনার স্বামী। নরসিংদী জঙ্গি অভিযানের পর থেকে তার কয়েকজন সহযোগীসহ পলাতক ছিল। আর আর্তুগ্রুলের নির্দেশে সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি জনমনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মতৎপরতার অংশ হিসেবে জঙ্গিহামলার স্থান নির্ধারণের জন্য একত্রিত হয়েছিল। এদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপর সূত্র জানায়, পুলিশের জঙ্গিবাদবিষয়ক বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের অভিযানে ৭০ জঙ্গি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়েছে। আর কারাগারের কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছে ২৬ জন জঙ্গি। এসব জঙ্গি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত পাঁচটি জঙ্গি সংগঠনের। আবার গত ৫ বছরে বিভিন্ন মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছে ২৩৬ জঙ্গি। এর মধ্যে বিদেশে পালিয়ে গেছে ১০ জঙ্গি। জঙ্গিবিরোধী এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হয়েছে।

এসব হত্যাকান্ডের বিষয়ে অর্ধ শতাধিকের অধিক মামলা দায়ের হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিচালিত অভিযানে জঙ্গিদের সর্বশেষ তথ্য চিত্রসংবলিত এই বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশের জঙ্গিবাদ বিশেষায়িত ইউনিট। জঙ্গিদের সম্পর্কে তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, যে পাঁচটি জঙ্গি সংগঠনের জঙ্গিদের চিহ্নিত করা হয়েছে সেইসব জঙ্গি সংগঠনগুলো হচ্ছে সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন, হরকত-উল জিহাদ, হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলাটিম, জেএমবি ও নব্য জেএমবির সদস্য। এসব জঙ্গি সংগঠনের চিহ্নিত জঙ্গিদের মধ্যে ৩ হাজার ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব, পুলিশ ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বিভিন্নস্থানে জঙ্গি আস্তানা থেকে এসব জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হয়। আর গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জামিনে মুক্তি পাওয়া ১৩৪৬ জঙ্গির মধ্যে যে ২১৯ জঙ্গি আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া জঙ্গিরা ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। জঙ্গি সংগঠনগুলোর মেরুদ- ভেঙ্গে দেয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নজরদারির মধ্যে খুব বেশি একটা সুবিধা করতে পারছে না জঙ্গিরা।

পুলিশ সদর দপ্তরের অপর এক সূত্র জানায়, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে যেই ৭০ জঙ্গি নিহত হয়েছে তার মধ্যে গুলশান হলিআর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলাকারী, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ জামাতে হামলাকারী, কল্যাণপুর, আজিমপুর, মিরপুরের রূপনগর, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া, সিলেটের আতিয়ামহলসহ তিনটি জঙ্গি আস্তানা, চট্টগ্রামের সিতাকুন্ডু জঙ্গি আস্তানায় নিহত জঙ্গিরা রয়েছে। নিহতদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিদের মধ্যে রয়েছে মেজর জাহিদ, তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, মাঈনুল ইসলাম মুসা ও তানভির কাদেরীর নাম অন্যতম।

অপর সূত্র জানায়, গত ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশান হলি আর্টিজানে জঙ্গিহামলার পর জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয় দেশব্যাপী। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট একযোগে মাঠে নামে। মিরপুরের রূপনগরে নিহত হয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সেকেন্ডইন কমান্ড মেজর জাহিদ। নব্য জেএমবির প্রধান ও হলিআর্টিজানের মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী নিহত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায়। তানভীর কাদেরী আজিমপুরে, মারজান মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

হলিআর্টিজানের পর উল্লিখিত শীর্ষ জঙ্গি ছাড়াও সিলেটের আতিয়া মহল, কুমিল্লা, বিমানবন্দর সংলগ্ন দক্ষিণখান, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, রাজধানীর কল্যাণপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গিরা নিহত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। রাজধানীর গুলশান হলিআর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিহামলার ঘটনাটিকে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে গণ্য করে সরকার। এরপর দেশব্যাপী পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়। শুধু গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও নব্য জেএমবির ৫৭ জঙ্গি নিহত ও গ্রেপ্তার করা হয় ৪১ জনকে, যারা শীর্ষ জঙ্গি হিসেবে পরিচিত।

গুলশান হলিআর্টিজান বেকারিতে হামলার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবিরোধী বড় ধরনের ২২টি অভিযানে নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সক্রিয় কর্মীসহ ৫৭ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এছাড়া এসব জঙ্গিবিরোধী এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হয়েছে। এসব হত্যাকান্ডের বিষয়ে অর্ধশতাধিকের মতো মামলা দায়ের হয়েছে, যা তদন্তাধীন রয়েছে। জঙ্গিরা বড় ধরনের হামলা চালাতে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এদিকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জঙ্গিদের অবস্থান ও গতিবিধি শনাক্ত করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জঙ্গিবাদ এখন মিশন। জঙ্গিরা হলিআর্টিজানে হামলার মাধ্যমে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। ওই ঘটনার পর পুলিশ একের পর এক জঙ্গি ডেরায় সফল অভিযান পরিচালনা করে দেশকে জঙ্গিবাদের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছে।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১