আকাশবার্তা ডেস্ক :
বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ব্যতিক্রমী কাজের মাধ্যমে আবারো আলোচনায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।
এবার তাঁর সার্বিক তত্বাবধান আর নির্দেশনায় মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের দূর্লভ আলোকচিত্রের সমাহারে ঢাকা জেলা পুলিশ প্রকাশ করেছে নান্দনিক প্রচ্ছদ আর অলংকরনে সজ্জিত স্মারকগ্রন্থ ‘ গৌরবময় স্বাধীনতা’।
মু্ক্তিযু্দ্ধের অবিনাশী চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের এই প্রয়াস নাড়া দিয়েছে দেশের শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবিসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে ।
মুক্তিযুদ্ধের অজানা ঘটনাচিত্র, দূর্লভ ইতিহাস সমৃদ্ধ ৩৪০ পৃষ্ঠার স্মারক গ্রস্থটি আগ্রহী পাঠকদের হাতে তুলে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন শাহ মিজান শাফিউর রহমান।
এই উদ্যোগ স্বাধীনতার চেতনা বোধকে আরো সমৃদ্ধ করবে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের শ্রেষ্ঠ নাগরিকদের ত্যাগ আর এক সাগর বিনিময় রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সঠিক মর্মবাণী তুলে ধরবে- স্মারক গ্রস্থটি পাঠ করে এমনটিই বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে দেশের খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবিসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষরা।

স্মারকগ্রস্থটির প্রকাশনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) হাবিবুর রহমান, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

গ্রন্থটির সম্পাদক পুলিশ সুপার পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা জানান, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান স্যারের একান্ত প্রচেষ্টায় এই কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঝকঝকে অপসেট কাগজে প্রকাশিত এই স্মারক গ্রন্থটি মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি প্রামাণ্য সংকলন। যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ ও চেতনার সমুজ্জলের বহি:প্রকাশ।
গ্রন্থটিতে দেশবরেণ্য লেখকদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ লেখা ছাড়াও দুর্লভ আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৬ সালের ১৬ জুলাই ঢাকা জেলার দায়িত্ব নেন নাটোরের সন্তান শাহ মিজান শাফিউর রহমান। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন এই আদর্শকে সামনে রেখে ঢাকা জেলাকে পরিণত করেন শান্তির জনপদে।

ঢাকা জেলায় স্বাধীনতার পূর্ববর্তী প্রথম পুলিশ সুপার হিসেবে লে: ডাব্লিও এল এন নাইভেটের পর ৯২তম আর স্বাধীনতার পর ৩১তম পুলিশ সুপার হিসেবে শাহ মিজান শাফিউর রহমান আলোচনায় আসেন মাত্র ১’শ টাকার বিনিময়ে (ফর্মের দাম) পুলিশের চাকরি নিশ্চিত করে।পুলিশের পদোন্নতিতে আনেন স্বচ্ছতা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃশ্য ম্যুরাল স্থাপনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন্সে নির্মাণ শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল।

এ ছাড়াও জাতির গৌরবের স্মারক জাতীয় স্মৃতিসৌধে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের মহান জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে বর্নাঢ্য মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেও প্রশংসা কুড়ান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান। স্মৃতিসৌধে আসা নারী ও শিশুদের মাঝে সুপেয় পানি সরবরাহ, নারী ও শিশুদের জন্যে ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাপনা, রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন শাহ মিজান শাফিউর রহমান।
পাশাপাশি ঢাকা –আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত বিশাল এলইডি স্ক্রীনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষন ও দুর্লভ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ জনতার মাঝে সাড়া ফেলে দেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।
পুলিশের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা ২০০১ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে। দিনাজপুর জেলা, সিএমপি, র্যাব, এসবি ও যশোর জেলায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে বহু প্রশংসা আর পদক। দু’বার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন ‘জাতিসংঘ শান্তি পদক।
পুলিশ সুপার হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলায় সন্ত্রাস ও গডফাদার দমনে অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার স্বাক্ষর রাখা শাহ মিজান শাফিউর রহমান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগে উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন শেষে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন ঢাকা জেলায়।
স্মারকগ্রস্থ ‘গৌরবময় স্বাধীনতা’ প্রসঙ্গে গ্রন্থটির নির্দেশক ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানান, আমাদের লক্ষ্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেনতাকে বিকশিত করে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই জাতিকে জানাতে চাই মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস। আমাদের এই প্রয়াস দেশের স্বাধীনতাকে আরো সমুজ্জল করার জন্যে।
নতুন প্রজন্ম যেন নতুন করে স্বাধীনতার চেনতায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে- সেই চেতনার বাতিঘর হিসেবেই আমাদের এই প্রয়াস- জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।F