আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুরের পুরাতন দাসেরহাট এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারের জমি জবর দখলে রাখতে ব্যর্থ হয়ে রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার পর উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন চরশাহী ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে সংখ্যালঘু তিন সহোদর সরজিৎ সেন, সত্যজিৎ সেন ও তপন কুমার সেনের মালিকানাধীন জমি জবর দখলে রাখতে চেষ্টা চালায় স্থানীয় জোতদার হোসেন আহাম্মদ। এতে ব্যর্থ হয়ে রাতের আঁধারে দলবল নিয়ে ওই জমি থেকে গাছ কেটে নিয়ে যায় তারা। পরে ওই ঘটনায় উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় জমির প্রকৃত মালিক সংখ্যালঘু ওই পরিবারকে।
বর্তমানে হোসেন আহম্মদ ও তার অনুগত বাহিনীর হুমকি ধমকি এবং মিথ্যা মামলার কারণে সংখ্যালঘু পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগিরা জানায়, ১৯৬০ সালের এমআরআর জরিপকালে কল্যাণপুর গ্রামের প্রকাশ্য পুরাতন দাসেনহাটের সংখ্যালঘু মৃত অটল বিহারী সেনের ওয়ারিশ সূত্রে কতেক জমি তার সহোদর দুই ভাইকে ভারতীয় নাগরিক দেখিয়ে সরকারের ভিপি নথিতে রেকর্ডভূক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে তারা উক্ত জরিপ সংশোধন করে নিলেও বিগত ১৯৯০ সালে মাঠ জরিপ চলাকালে তাদের জমি ভিপি তালিকা ভুক্ত দেখিয়ে অটল বিহারী সেনের পুত্রদের নামে রেকর্ড স্থগিত রাখা হয়।
এদিকে ১৯৬০ সালে রেকর্ডে ত্রুটির সুবাধে ১৯৭০ সালে স্থানীয় মৃত তবারক উল্লার পুত্র জোতদার হোসেন আহাম্মদ, মানিক মুহুরী ও তাদের লোকজন অটল বিহারী সেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে তাদেরকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে জমিজমা সব দখল করে নেয়।
অটল বিহারী সেন তখন গ্রাম ছেড়ে পূর্বকল্যাণপুর গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন।
এদিকে হোসেন আহম্মদ ও মানিক মুহুরী তাদের লোকজন অটল বিহারী সেনের বাড়িতে স্বপরিবারে বসবাস করতে থাকেন। সম্প্রতি সরকার ক তফসিলে থাকা ভিপি তালিকাভুক্ত জমির মালিকানার দাবিদারদের আদালতে মামলা দেওয়ার সুযোগ ও খ তফসিলে থাকা জমির ভিপি তালিকা প্রত্যাহার করে মালিকদের নামে রেকর্ডভুক্ত করার সুযোগ দেওয়ার পর সরজিৎ সেন, সত্যজিৎ সেন ও তপন কুমার সেন ৪ একর জমির জমাখারিজ খতিয়ান করে নিজ নামে খতিয়ান খুলে ভোগ দখলে গেলে হোসেন আহম্মদ ও মানিক মুহুরীগং তাদের বাধা প্রদান করে।
এ নিয়ে তারা চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে স্থানীয় দাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে দুইপক্ষের কাগজপত্র নিয়ে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু হোসেন আহম্মদ ও মানিক মুহুরীগং তাদের মালিকানা দাবির পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এতে সরজিৎ সেনদের কাগজপত্র বৈধতা পেয়ে গত মঙ্গলবার সার্ভেয়ার দ্বারা জমি পরিমাপ করে সীমানা পিলার দিয়ে তাদেরকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হোসেন আহম্মদ ও মানিক মুহুরীগং ওই দিন দিবাগত রাতের আঁধারে সরজিৎ সেন ও তার ভাইদের বাগানের সুপারি গাছসহ বিভিন্ন গাছপালা কেটে ফেলে পরদিন বুধবার উল্টো লক্ষ্মীপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গাছকাটার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যার নং- সিআর ৫৮/১৭।
উক্ত মামলায় সরজিৎ সেন ও তার তিন ভাই, ভাতিজা ছাড়াও তাদের আমমোক্তার লক্ষ্মীপুর শহরের বাসিন্দা ফজলে আজীম, চরশাহী গ্রামের জাফর হোসেন মানু, পাঁচপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন হেলাল খাঁনসহ ১২ জনকে বিবাদি করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায় মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে। তারা কেউই ওই এলাকায় বসবাস করেন না।