আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের পিটুনিতে গুরুত্বর আহত তিন ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে চন্দ্রগঞ্জস্থ ন্যাশনাল (প্রাঃ) হাসপাতাল এবং এসএমকে (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরআগে সোমবার দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন চরশাহী ইসলামীয়া আলীয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীরা হলো, নবম শ্রেণির ছাত্রী ফাহমিদা আক্তার, শাহিনুর আক্তার ও জান্নাতুল নাঈমা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মালেককে শোকজ নোটিশ করা হয়েছে। আহত ছাত্রীরা সবাই চরশাহী এলাকার বাসিন্ধা।
জানা যায়, সোমবার দুপুরে চরশাহী ইসলামীয়া আলীয়া মাদ্রাসায় নবম শ্রেণির আরবি ক্লাস চলাকালীন সময়ে শ্রেণিকক্ষে কথা বলার অপরাধে শিক্ষক আব্দুল মালেক শিক্ষার্থী ফাহমিদা, শাহিনুর ও নাঈমাসহ আরো কয়েকজন ছাত্রীকে বেদম মারধর করেন। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাদেরকে গ্রাম্য ডাক্তার এনে কিটোনিক্স (ketonix) নামক ব্যথা নাশক ইনজেকশন পুশ করা হয়। পরে বাড়িতে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার দুপুরে ওই তিন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তাদের অভিভাবকরা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ছাত্রী ফাহমিদা আক্তারের মা’ আয়েশা সিদ্দিকা, শাহিনুর আক্তারের বড় বোন সেলিনা আক্তার ও জান্নাতুল নাঈমার চাচা জহির আলম সুজন তারা জানান, শ্রেণিকক্ষে কথা বলার কারণে আরবি বিষয়ের শিক্ষক আব্দুল মালেক তাদেরকে বেদম প্রহার করেন। এতে তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক তাৎক্ষণিক গ্রাম্য ডাক্তার এনে তাদেরকে ব্যথা নাশক একটি ইনজেকশন দেয়। পরে বাড়িতে যাওয়ার পর তারা আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত ছাত্রীদের অভিভাবকরা বিচার দাবি করেন।
চরশাহী ইসলামীয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সদর ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দাখিলের জন্য শোকজ নোটিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।