প্রতিনিধি, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) :
কাক ডাকা ভোরে শীতের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে কৃষকেরা এখন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন আগামীদিনের খাদ্য সংগ্রহের স্বপ্ন নিয়ে। সেচ প্রদান ও জমিতে ধানের চারা রোপণে এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষি পরিবারগুলো। বিগত বোরো ও আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তোলায় এবার বেশ ফুর ফুরে মেজাজ নিয়ে বোরো আবাদে এখানকার কৃষকরা কোমর বেধে নেমেছেন ধানের চারা রোপণে। তবে বেশ কয়েকটি বিলে সেচ ও পানি সঙ্কটের কারণে বোরো আবাদ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানান কৃষকরা। এদিকে ফলন ভালো পেতে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষথেকে পাচ্ছেনা কোন পরামর্শ।
জানা গেছে, চলতি বছর আবহাওয়া বোরো চাষের অনুকূলে থাকায় ও বীজতলা রোগ-বালাই না থাকায় চাষীরা বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার বোরো চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পশ্চিমাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নসহ প্রায় ১০টি ইউনিয়নের কৃষি নির্ভর পরিবারগুলো। এখন কৃষক ৩০ থেকে ৪০ দিন বয়সী চারা জমিতে রোপণ করছেন। তবে মাঘ মাসের শেষের দিকে পুরো দমে বোরো রোপণ শুরু হবে বলে কৃষকেরা জানান।
রায়পুর উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে- এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৭শ’ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৯শ’ ৭০ মেট্রিক টন চাল। ইতিমধ্যে উপজেলার প্রায় ৩০ ভাগ জমিতে আগাম জাতের ইরি বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগাম বন্যার হাত থেকে ফলন রক্ষা করতে তীব্র শীত উপেক্ষা করে চাষাবাদে ব্যস্ত রয়েছে কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে বোরো আবাদের মহা ধুমধাম।
কোদাল, কলের লাঙল ও ট্রাক্টর দিয়ে মাটি চাষ দিয়ে চারা রোপণের উপযোগি করা হচ্ছে বোরো ক্ষেত। দেওয়া হচ্ছে জমিতে সার ও সেচ। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় সেচ পাম্প থেকে পানি নিচ্ছেন চাষিরা। এছাড়া কোথাও সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হচ্ছে ইরি ধানের চারা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী তারা। কিন্তু ধান উৎপাদনের খরচ ভেঙে গেলেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার চরমোহনা গ্রামের কৃষক তমিজ উদ্দিন বলেন, বোরো রোপণের জন্য জমি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি চলতি মৌসুমে ১ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করবেন। এখন পর্যন্তু সামান্য কিছু জমিতে বোরো রোপণ সম্পন্ন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন হবে বলে আশা ব্যক্ত করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আমাদের কোন প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দেয়া হচ্ছেনা। আমরা সরকারিভাবে সার বা বীজ কোনো কিছু পাচ্ছিনা। সার ও উন্নত জাতের বীজ পেলে আমি আরও উপকৃত হতে পারতাম।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ওমর ফারুক জানান, রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৭শ’ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৯শ’ ৭০ মেট্রিক টন চাল। ইতিমধ্যে উপজেলার প্রায় ১০ ভাগ জমিতে আগাম রোপণ করা হয়েছে বোরো ধানের চারা।