আকাশবার্তা ডেস্ক :
পুলিশকে মারধর করার অভিযোগে শেখ নাজমুল হোসাইন মিরনকে রাজধানীর পল্টন থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সহ-সভাপতি রনি হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।
এর আগে, গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পল্টন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ নাজমুল হোসাইন মিরনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর মিরনসহ ৯ জনকে ১ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৩জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াসির আহসান চৌধুরী আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চান। আসামিপক্ষে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেককে ১ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যাদের কে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে তারা হলো-পল্টন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ নাজমুল হোসেন, ওয়াহিদুল ইসলাম, আরিফ, শেখ রহিম, রাসেল, শাহ্ আলম চঞ্চল, আরিফ হোসেন, কাওসার আহমেদ সাইফ ও মোয়াজ্জেম।
পল্টনের একটি ভবনে অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুর ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় পল্টন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ নাজমুল হোসাইন মিরনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়।
পল্টন থানায় অপর মামলায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং সেই অর্থ চাইতে গেলে বাদী আসলাম আহসান তুষারকে মারধর করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তুষার ও তার আত্মীয়দের কাছ থেকে ২০১৮ সালে ১০ লাখ ৮০ হাজার অর্থ আত্মসাৎ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় দন্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৫০৬, ৩২৩ এবং ৪৪২ নং ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। পল্টন থানার যেই মামলায় ৯ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে সেটির বাদী এসআই আশরাফুল হক। অপর মামলার ৭ আসামির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ৭ জন হলো- বিএম আসলাম হোসেন, মেহেদী হাসান, জুয়েল, শরিফুল ইসলাম, সোহেল তালুকদার, সম্রাট ও সাখাওয়াত হোসেন।
উল্লেখ্য, ২২ জানুয়ারী সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর করছে এমন তথ্য পেয়ে পল্টনের বিশ্বাস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ভবনে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখে আসামিরা অফিসের চেয়ার, টেবিল ও কম্পিউটার ভাঙচুর করছে। বাদী (এসআই আশরাফুল হক) আসামিকে ভাঙচুর না করার অনুরোধ করলে তারা পুলিশকে মারধর করে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় পৃথক ২টি মামলা হয়। ১ মামলার আসামি ৯ জন। অপর মামলায় ৭ জন।