আকাশবার্তা ডেস্ক :
নিস্তব্ধ রাত। সূর্যাস্তের পর মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। এরই মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে গ্রামের মানুষজন। এরপর চুরি-ডাকাতির উদ্দেশ্যে বের হয় মাদকসেবীদের একটি চক্র। রাতের আঁধারে নানা কৌশলে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন অফিসে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মালামাল লুটে নেয় তারা। কিন্তু পোষা কুকুরগুলো তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিষ মিশ্রিত খাবার খাইয়ে পোষা কুকুর হত্যা করছে ওই চক্রের সদস্যরা।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সাতদিনে অন্তত ১০টি কুকুর হত্যা করেছে মাদকসেবী চক্রের সদস্যরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডস্থ লদের বাড়িতে ২টি, চৌকিদার বাড়িতে ২টি, ৩নং ওয়ার্ডস্থ জান্তার বাড়িতে ২টি এবং আবদুর রহিম ডাক্তার বাড়িতে ১টিসহ অন্তত ১০টি পোষা কুকুর হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর শীতের শুরু থেকে দত্তপাড়া এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এলাকার মাদকসেবীদের একটি চক্র এর সঙ্গে জড়িত বলে তাদের ধারণা। গত শুক্রবার রাতে দত্তপাড়া সাকসেস কিন্ডার গার্টেন থেকে ২টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ১টি মনিটর, ২টি মোবাইল সেট ও নগদ ৫ হাজার টাকা চুরি হয়।
এরআগে তোতারখিল আয়েশা উচ্চ বিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেইট ভেঙ্গে একটি মোটর সাইকেল চুরি করা হয়। চুরির উদ্দেশ্যে দত্তপাড়া হরিদাসের বাড়ির একটি ঘরের সিত কাটতে গেলে পোষা কুকুরের তাড়া খেয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। এরপর থেকে ওই চক্রের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে পোষা কুকুর হত্যা করছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপন বলেন, পোষা কুকুর হত্যার বিষয়টি আমি শুনেছি। হঠাৎ করে এতগুলো কুকুর হত্যার পিছনে নিশ্চয়ই কোনো রহস্য আছে। মাদকসেবীরা নিরাপদে চুরি করার লক্ষ্যে পোষা কুকুর গুলো হত্যা করতে পারে বলে আমার ধারণা। এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে শিঘ্রই গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে প্রতিটি গ্রামে পাহারা বসানো হবে বলেও জানান তিনি।
দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, প্রতিরাতে দত্তপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে তালিকা তৈরি করে এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবীদের আইনের আওতায় আনা শুরু হয়েছে। যার ফলে দত্তপাড়া এলাকার পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রিত।