নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে রহমতখালী খালের ভাঙনে চরম বিপাকে রয়েছেন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে এ খালের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিগত কয়েক বছরের ভাঙনে বিধ্বস্ত হয়েছে খাল পাড়ের একাধিক গ্রামীণ সড়ক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাঁড়া না পেয়ে ভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারছেন না গ্রামবাসী। তাই বর্ষা এলেই চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তারা।
ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার উপর দিয়ে বয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে রহমতখালী খাল। এ খালের দুই পাড়ে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের বসতি। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী, দিঘলী, মান্দারী, লাহারকান্দি, ভবানীগঞ্জ, শাকচর ও চর রমনী মোহন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এই খালের নিকটবর্তী এলাকায়। এসব এলাকার একাধিক গ্রামীণ সড়ক খালের ভাঙনে ধ্বসে পড়েছে বলে জানা গেছে।
রহমতখালী খালের পাড়ে অবস্থিত লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মান্দারী ও পূর্ব মান্দারী গ্রামের মানুষজনের চলাচলের জন্য প্রায় ২ কিলোমিটারের একমাত্র সড়ক। বিগত কয়েক বছর ধরে খালের ভাঙনে ধ্বসে পড়েছে সড়কটির প্রায় ১শ’ মিটার।
স্থানীয়রা বলেন, দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের ছানাগাজী পাটোয়ারী বাড়ি সংলগ্ন এই সড়কের পাশেই রয়েছে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা। বৃষ্টির দিনে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে যাতায়াত করা খুবই কষ্টসাধ্য বেপার মসজিদের মুসুল্লিদের জন্য। গ্রামের কচিকাঁচা শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়েই মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করতে হয়।
স্থানীয় মোহাম্মদ রিয়াজ পাটোয়ারী বলেন, অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনে নির্বিঘেœ গ্রাম থেকে বাজার অথবা শহরে যাওয়া-আসা করা অনেকটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় সড়কের বিধ্বস্ত অংশটি যথাযথভাবে সংস্কার করা দরকার। শিঘ্রই এ কাজটি না করলে আগামী বর্ষায় মসজিদ, দোকানপাট ও বসতঘর ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহিম বলেন, রহমতখালী খালের ভাঙন প্রতিরোধ করার জন্য চেষ্টা করে ছিল গ্রামবাসী। কিন্তু তা টিকে নি। খালের ভাঙনে বিধ্বস্ত এ সড়কটি সংস্কারের জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই টাকার যোগান দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, রহমতখালী খালের ভাঙনে দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের ধ্বসে পড়া সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে। শীঘ্রই এর সংস্কারে কাজ শুরু করা হবে।