শুক্রবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর সফর উন্নয়নের মাইল ফলক

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মূল্যায়নে লক্ষ্মীপুরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর উন্নয়নের একটি মাইল ফলক। জেলার অঞ্চল ভিত্তিক উন্নয়নের প্রত্যাশায় কিছুটা ফাঁরাক থাকলেও সামগ্রিকভাবে পুরো জেলার মানুষ অনেক কিছুই পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ঘোষণার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। বিশেষ করে নৌ-বন্দর স্থাপন, রামগতি-কমলনগর উপজেলার নদীভাঙন প্রকল্পে দ্বিতীয় দফায় বাজেট ছাড়, শিক্ষার মানোন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করণের ঘোষণায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

এছাড়া নৌ-বন্দরের নাবিক নিবাস, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, খাদ্যগুদামে ৫০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন গুদাম নির্মাণ, রামগঞ্জ উপজেলায় ১৩২/৩৩ কেবি গ্রিড উপ-কেন্দ্র নির্মাণ, পিয়ারাপুর সেতু, চেউয়াখালী সেতু, লক্ষ্মীপুর পৌর আধুনিক বিপণী বিতান, রামগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি ব্যাটালিয়ন সদর দফতর কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীপুর পৌর আজিম শাহ (রা.) হকার্স মার্কেট, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ একাডেমিক ভবন কাম পরীক্ষা কেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন্স মহিলা ব্যারাক নির্মাণ, লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়কে পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, রায়পুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ও কমলনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনসহ ১৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের প্রধান নির্বাহী ক্ষমতার মালিক কোনো জেলা বা অঞ্চলে সফর করলে ওই এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অনেক কিছুই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যিনি প্রত্যাশাগুলো পূরণ করবেন, তিনি অবশ্যই দাবিগুলোর মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য তার মূল্যায়ন করবেন।

স্বাধীনতার ৪৬ বছরে লক্ষ্মীপুরে জাতীয় সংসদে আওয়ামীলীগের প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র সাড়ে ৬ বছর। বাকী প্রায় ৪০ বছর জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুরের প্রতিনিধিত্ব করেছে বিএনপি-জামায়াত এবং জাতীয় পার্টি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারের হত্যার পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মহান সংসদে আওয়ামীলীগের কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিলনা।

এর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমানের সাড়ে ৩ বছরসহ ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ এবং ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে বিএনপি। হিসেব অনুযায়ী ৪৬ বছরে সাড়ে ২৬ বছর লক্ষ্মীপুরে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি ছিল বিএনপি। বিএনপির সাড়ে ২৬ বছর আর আওয়ামীলীগের সাড়ে ৬ বছরের মধ্যে উন্নয়নের মূল্যায়ন করলে শতকরা ৮৫ ভাগ উন্নয়ন আওয়ামীলীগের আর বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ১৫ ভাগ।

অথচ এজেলার মানুষ বার বার ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদেরকেই নির্বাচিত করেছে। লক্ষ্মীপুর বরাবরই বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এখনও আওয়ামীলীগের সাথে ভোটের হিসাবে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। তারপরও বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বা তারা ক্ষমতায় থাকাকালে কি উন্নয়ন হয়েছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ক্ষমতায় থাকলে চিরাচরিত বা স্বাভাবিক নিয়মের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এটিকে আমি উন্নয়ন হিসেবে মূল্যায়ন করিনা।

যেমন, মেঘনার ভাঙন রোধ প্রকল্প, হাসপাতাল স্থাপন, শিশুপার্ক নির্মাণ, থানা বাস্তবায়ন, নৌ-বন্দর স্থাপন, ফায়ার সার্ভিস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, খাদ্য গুদাম নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট নির্মাণ, পাসপোর্ট অফিস স্থাপনসহ দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন হয়েছে আওয়ামীলীগের শাসনামলে। অথচ এসব উন্নয়ন করার কথা ছিল বিএনপির। যা তারা করতে পারেনি।

১৪ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর সফরে প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির তালিকা ধরে বিশ্লেষন করলে প্রাপ্তিটাই বেশি মনে হবে। হয়তো জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার সাড়ে ৩ লাখ মানুষ আশাহত হয়েছেন, তবে একেবারে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। ৫৬ বছরের থানার দাবি পূরণ হয়েছে ২০১৪ সালে। সেটাও শেখ হাসিনার সরকারই বাস্তবায়ন করেছে। মাত্র দুই বছরের মাথায় উপজেলা বাস্তবায়নের দাবি তোলা অপ্রাসঙ্গিক না হলেও দাবি পূরণ হবে এমনটা জোর আশা করা ঠিক হয়নি।

তবে এখানে একটি কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা, যে কোদাল আসলেই বুকের দিকে টানে। একমাত্র জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্ধা গোলাম ফারুক পিংকু ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দাবি আর কেউ উপস্থাপন করেনি। অবশ্য চন্দ্রগঞ্জ থানাবাসী এজন্য গোলাম ফারুক পিংকু সাহেবকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। চন্দ্রগঞ্জবাসী আশা করছে গোলাম ফারুক পিংকু সাহেব আওয়ামীলীগের জেলা সভাপতি হিসেবে দাবিটি বার বার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলতে থাকলে একদিন অবশ্যই তা পূরণ হবে।

পরিশেষে একটি কথাই বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর সফর উন্নয়নের একটি মাইল ফলক। আমরা যা পেয়েছি বা প্রধানমন্ত্রী যা আমাদের দিয়েছেন তার মূল্যায়ন করতে হবে। তা নাহলে আমরা অকৃতজ্ঞই থেকে যাব। প্রাপ্তির স্বীকার করলে হয়তো আরো পাওয়া আশা করতে পারি। না হলে যিনি দিয়েছেন তিনি আশাহত হবেন এবং ভবিষ্যতে আরো প্রাপ্তির আশা থেকে আমরা বঞ্চিত হব।

মো. আলী হোসেন : লেখক-সম্পাদক।
           

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮