আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম রাজিবকে লাঞ্ছিত করেছে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান। এ ঘটনার পর পুনরায় দলবলসহ হাসপাতালে গিয়ে ওই চিকিৎসকের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় এবং তাকে হাসপাতাল ছাড়ার হুমকি দেয়া হয়। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতা রাকিব চিকিৎসক রাজিবকে লাঞ্ছিত ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন। আধা ঘন্টা পর ছাত্রলীগ নেতা তার লোকজন নিয়ে ফের ওই চিকিৎসকের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় এবং হুমকি দিয়ে যায়।
হাসপাতাল সূত্রে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, দুপুরে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুদের চিকিৎসা চলছিল। এ সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবসহ ছাত্রলীগ কয়েকজন কর্মী জরুরী বিভাগে অবস্থান নেয়। চিকিৎসা কাজে ব্যহত হচ্ছে বলে চিকিৎসক রাজিব ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জরুরী বিভাগ থেকে বাইরে যেতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীরা চিকিৎসককে লাঞ্ছিত এবং অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন। এ ঘটনার আধাঘন্টা পর ওই ছাত্রলীগ নেতা আরও কিছু লোকজন নিয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসক রাজিবের ওপর হামলার চেষ্টা করেন।
মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম রাজিব জানান, চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে তাই জরুরী বিভাগ থেকে অন্যদের চলে যেতে বলি। বের না হওয়ায় তাদেরকে হাত ধরে বাইরে নিয়ে জরুরী বিভাগের দরজা বন্ধ করে দেই। এতে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব আমাকে ধাক্কা দেয়; কলম ছুড়ে মারে এবং গালমন্দ করে। আধা ঘন্টা পর সে তার অনুসারীদের নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলার চেষ্টা করে এবং হুমকি দেয়। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
অভিযুক্ত কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান বলেন, আমি চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করিনি। ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে গালমন্দ করেছে।
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডা. রেজাউল করিম রাজিবকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কমলনগর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ও চিকিৎসক নেতাদের জানানো হয়েছে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ বলেন, পুলিশ প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।