শনিবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

দন্ডবিধি আইনের ২৯০ ধারা : আইন কী বলে?

আইন আদালত ডেস্ক :

২৯০ ধারা আইন হলো- প্রকাশ্য স্থানে নারীপুরুষ বেহায়াপনা বা অশ্লীল আচরণ করলে এবং মেয়েটি যদি দেহপসারিনী হয়, তবেই দ.বি. ২৯০ ধারা ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এই আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে বিভিন্ন সময়।

যেমন বিভিন্ন সময় নারী-পুরুষ বা যুগল প্রেমিক ধরা পড়লে প্রশ্ন করা হয় আপনারা কি বিবাহিত, কাবিননামা দেখান?

আইন কী বলে :
কোনো দম্পত্তির বিয়ের কাবিননামা চাওয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই।
নিতান্ত উজবুক ছাড়া কোন দম্পত্তি কাবিননামা সঙ্গে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যায় না। বাংলাদেশের আইন বিয়ের প্রমাণ নিয়ে চলাফেরা করতে তাগিদও দেয় না।
পুলিশকে মনে রাখতে হবে কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা অন্যায়। দু’জন সাবালক নর নারী (প্রেমিক প্রেমিকা হলেও দোষ নেই) একত্রে চলাফেরা করলে, একই হোটেল রুমে থাকলে কিংবা সী-বিচে ঘনিষ্ট হলেই তাদের আটক করা যায় না। আটক করলে এটি হবে বেআইনী এবং আইন সম্মত কারণ ছাড়া আটকের জন্য পুলিশ দায়ী হবে। যে অফিসার এমন করবেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের চার্জ আনাসহ কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া চলে।
পুলিশ প্রায়শই দন্ডবিধি আইনের ২৯০ ধারার অপপ্রয়োগ করে এই সকল ক্ষেত্রে।
প্রকাশ্য স্থানে নারীপুরুষ বেলাল্লাপনা বা অশ্লীল আচরণ করলে এবং মেয়েটি যদি দেহপসারিনী হয় তবেই দ.বি. ২৯০ ব্যবহার করা যায়। দু’জন সাবালক নরনারী বিয়ে ছাড়া হোটেলের একই রুমে রাত্রিযাপন করলে বাংলাদেশের আইনে কোনো অপরাধ হয় না, যদি না নারীটি প্রসস্টিউট হয়।
এখন প্রশ্ন হল, বিয়ে ছাড়া দু’জন নরনারী একত্রে বসবাস করা কি অনৈতিক নয়?
হ্যাঁ, অনৈতিক হতে পারে কিন্তু এটি অপরাধ নয়, তাই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারে না। সকল অপরাধই অনৈতিক কিন্তু সকল অনৈতিক কর্ম অপরাধ নয়।

এখন দেখা যাক বিবাহের প্রমাণ কি? নিচের যে কোনো একটি প্রমাণ দিলে আইন ধরে নেবে তারা বিবাহিত :
১. কাবিন নামা দেখালে।
২. বিয়ের দুজন সাক্ষী যদি বলে তারা বিবাহিত।
৩. নরনারী যদি পরস্পর পরস্পরকে স্বামী স্ত্রী হিসেবে মৌখিক স্বীকৃতি দেয়।
৪. পাড়া প্রতিবেশি লোকজন ও বন্ধুবান্ধবরা যদি বলে যে, দু’জনকে বিবাহিত হিসেবে তারা জানে।
কাজেই দেখা গেল, দু’জন নরনারী পুলিশের জিজ্ঞাসার উত্তরে যদি বলে তারা বিবাহিত, তা হলে পুলিশকে মেনে নিতে হবে তারা বিবাহিত। অন্তত, দেশের আইন তাই বলে। গ্রেফতার, আটক, হয়রানি চলবে না।

কাবিনামা চাওয়া,
বিবাহিত কিনা জিজ্ঞাসা করা,
বিবাহিত নয় সন্দেহে আটক করা,
এতদ সংক্রান্ত দম্পত্তিকে হয়রানি করা ইত্যাদি
সম্পূর্ণ বেআইনী কার্যকলাপ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পুলিশকে মনে রাখতে হবে তারা শুধু আইন শৃংখলা রক্ষা করে না, তারা নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতারও রক্ষক। দূর্ভাগ্যজনক ভাবে পুলিশের কিছু সদস্য নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমুন্নত না করে নিজেরা সেখানে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে। আসলে কোনোরকম অভিযোগ ছাড়া কারা বিবাহিত, কারা বিবাহিত নয়, কিংবা দু’জন কি প্রেমিক প্রেমিকা– নাগরিকদের এমন প্রশ্ন করা পুলিশের জন্য অনধিকার চর্চা এবং অভদ্রতাও বটে।

লেখক : ভানুলাল দাস। ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, সিআইডি, ঢাকা। 

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮