মঙ্গলবার ২৪শে মার্চ, ২০২৬ ইং ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘দুটি বাচ্চা থাকা সত্বেও আমার স্বামী বোনের প্রেমে পড়েছে’

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

আমি আমার নাম জানাব না কারণ সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি এমন কেউ হতে পারি যাকে আপনারা চেনেন, আর যদি আমার স্বামী বা স্বশুরবাড়ির লোকেদের নজরে পড়ে যে আমি ঘটনাটি প্রচার করছি, অথবা যদি আমার মা-বাবা এটি দেখে ফেলে, আমি বিরাট ঝামেলায় পড়ে যাব।

আমি মহানগরগুলির মধ্যে একটির পাশের শহরে থাকি। আমি একটি সাধারণ নারী এবং আমার চাওয়া

পাওয়াও খুবই সাধারণ, আমি শুধু পরিবারের সঙ্গে আনন্দে থাকতে চাই, আমার স্বামী আর দুটি বাচ্চার সাথে।

আমি শিক্ষিতা, কলেজে পড়ার সময় আমার বিয়ে হয়েছিল এবং আমার ইচ্ছা ছিল বলে আমার শ্বশুরবাড়ি আমাকে পড়াটা শেষ করতে দিয়েছিল। যেহেতু একটি যৌথ পরিবারে আমার বিয়ে হয় আমার শ্বশুরবাড়ি চেয়েছিল যে আমি বাড়িতে থেকে সবার দেখাশোনা করি। আর তাই, আমি একটি গৃহবধূতে পরিণত হলাম।আমার স্বামী ছিলেন অত্যন্ত হৃদয়বান। বিয়ের আগে তার সঙ্গে আমার একবারই সাক্ষাত হয়েছিল এবং তিনি আমাকে বলেছিলেন যে যতদিন আমি একজন স্ত্রী ও পুত্রবধূর কর্তব্য পালন করব আর পারিবারিক মূল্যবোধ মেনে চলব, সে সর্বদা আমার দিকে থাকবে। আমরা বন্ধুও হলাম আর প্রতিদিন নানা বিষয়ে অজস্র কথা বলতাম। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে প্রথমদিকে আমার একেবারেই একা লাগেনি।

জীবন ছিল নিখুঁত

বিয়ের ঠিক একবছর পর আমাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হল। সবাই খুব আনন্দিত হলেন, আমার স্বামীও, যে তখন তার চাকরিতে বেশ ভাল করেছে কিন্তু প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমার এবং বাচ্চার সাথে সময় কাটাবার জন্য  বাড়ি ফিরে আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকত। জীবন একেবারে নিখুঁত ছিল আর ের থেকে আনন্দের কিছু ছিল না।

আমি গর্ভাবস্থার ওজন কমাবার জন্য সচেষ্ট ছিলাম, তখনই আমার স্বাস্থ্যের কারণে কিছু ওষুধ শুরু করতে হল আর আমার ওজনের সমস্যা রয়ে গেল। আমরা ভেবেছিলাম যে আমাদের প্রথম সন্তান ৫ বছরের হলে দ্বিতীয় সন্তান নেব কিন্তু আমার স্বাস্থ্যের কারণে আমি সবসময় ক্লান্ত থাকছিলাম। বাড়ির সব কাজ এবং সবার দেখাশোনা শেষ হবার পর আমি শুয়ে পড়তাম। এই সময়ে আমার স্বামী তার কাজের প্রয়োজনে প্রচুর ভ্রমণ শুরু করলেন আর আমাদের মধ্যে কথাবার্তা ক্রমে কমে এল।

আমার স্বাস্থ্যের সমস্যা এবং আমার বোনের প্রবেশ

দ্বিতীয় গর্ভাবস্থার সময় স্বামী পরামর্শ দিল যে বাড়ির কাজে সাহায্য করার জন্য এবং প্রথম বাচ্চাটির দেখাশোনা করার জন্য আমার বোনকে নিয়ে আসতে। আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি বুড়ো হয়েছিলেন আর সত্যি কথা বলতে কি তাঁরা বাড়ির কোনও কাজই করতেন না। আবার বাড়িতে একটি পরিচারিকা রাখা হোক, সেটাও চাইতেন না, অর্থাৎ আমার সারাটা দিনই রান্নাঘরে আর টুকিটাকি কাজে কেটে যেত।

যাইহোক, দয়া করে আমার বোন কিছুদিনের জন্য আসতে রাজী হল। এসেই সে অনেকগুলি কাজের দায়িত্ব নিয়ে নিল। সে আমাকে বলল যে এবার আমার বিশ্রাম নেবার সময় আর ভালভাবে সবার দেখাশোনা করতে লাগল। সে তার জামাইবাবুকে জিজ্ঞাসা করে নিল যে সে কি কি খেতে ভালবাসে আর প্রতিদিন রাতে সেগুলি রান্না করত। সে আমাদের বাচ্চার সঙ্গে খেলত আর তার স্কুলের পড়াও দেখিয়ে দিত।

বাড়িতে এই নোতুন শক্তির আগমনের সাথে সাথে সবকিছু যথাসময়ে সুসম্পন্ন হতে লাগল, সবাই খুব খুশী হলেন, বিশেষ করে আমার স্বামী। সে আবার ঠিক সময়ে বাড়ি আসা শুরু করল আর রাতে খাবার পর আমার বোনের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠত। আমি বাচ্চটিকে কোলের কাছে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম, ভাল লাগত যে আবার আমার স্বামীর যত্ন হচ্ছে।

আমার স্বামী এবং বোনের মধ্যে সবসময়ই সুসম্পর্ক ছিল, এবং এখন সত্যিই তারা ভাল বন্ধু হয়ে উঠল। যে দিনগুলিতে আমি বাছানায় ছিলাম আর চলাফেরাও করতে পারতাম না, সে খেয়াল রাখত যাতে আমার অসুবিধে না হয়। সপ্তাহের কিছু রাত্রে আমার স্বামী তাকে নিয়ে বাইরে খেতে যেত। প্রতি সপ্তাহান্তে সে তাকে আর আমার বাচ্চাকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যেত, যাতে আমি বাড়িতে নির্বিঘ্নে বিশ্রাম করতে পারি।

এরই মধ্যে আমার বোন একটি পাঠক্রমে ভর্তি হল, যাতে তাকে শনি-রবিবার যেতে হত। তাকে পৌঁছে দেবার জন্য আর রাত্রে নিয়ে আসার জন্য আমার স্বামীও সঙ্গে যেত। আমার ভাল লেগেছিল যে আমার সংসারের সব ঝক্কি সামলেও বোন তার নিজের জীবনেরও খেয়াল রেখেছে।

আমাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পরও সে থেকে গেল, কারণ আমার স্বামী বলল যে এতে আমার সাহায্য হবে। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে সে স্বচ্ছন্দে আছে এবং আমার মা-বাবাকে বোঝাতে পেরেছিল যে সে আমাদের সঙ্গে থাকলে সবদিক দিয়ে ভাল হবে।

বোন আমাদের সঙ্গে থাকবে ভেবে আমারও ভাল লেগেছিল, হাজার হোক, সে আমাদের জন্য এত করেছে। আমার দুটি সন্তানই তার নেওটা ছিল এবং অনেক সময় তারা আমার চেয়ে ওর সঙ্গে থাকতেই বেশী পছন্দ করত।

সেই দিন, আমার স্বামী বলল যে সে বিবাহবিচ্ছেদ চায়। সে আরও বলল, সে আমার বোনকে ভালোবাসে এবং তাকে বিয়ে করতে চায়। সে বলে, বোনও তাকে সাথে ভালোবাসে, তারা সত্যিই এ ব্যাপারটা এড়াতে চেষ্টা করেছে, কিন্তু এখন, তারা প্রেমে পাগলের মতো হয়ে গেছে এবং একে অপরকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না।

এই বছরগুলিতে, আমি আমার বোনকে সবচেয়ে বড় বন্ধু ও সমর্থক মনে করতাম আর আমার স্বামীকে ভাবতাম পৃথিবীর সবচেয়ে দয়ালু স্বামী আর তারা আমারই বাড়িতে, আমারই সামনে এসব করেছে অথচ আমি বোকার মতো এদের বিশ্বাস করেছি।

যথেষ্ট ‘দয়া’ দেখিয়ে সে বলল যে আমি তার বাড়িতে আমাদের বাচ্চাদের সঙ্গে থেকে যেতে পারি কারণ, সে চায় না যে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আমার কোনরকম সমস্যা হোক।

বিয়ের ১০ বছর পর আমি এই পেলাম। কিই বা সাহায্য বা আশা আর আমি এখন করতে পারি? আমার জীবন শেষ হয়ে গেল। আপনারা কি বলতে পারেন যে এখন আমি কি করতে পারি?

*লেখিকার পরিচয় গোপন রাখার জন্য নাম প্রকাশ করা হয়নি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১