আকাশবার্তা ডেস্ক :
ফেনীর সোনাগাজীতে এক বিধবাকে গণধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর পুলিশের এক এএসআইকে ওই থানা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) সুজন কুমার দাসকে প্রত্যাহার করে শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ লাইনে আনা হয়।
ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গেলো বৃহস্পতিবার ওই বিধবা ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পরপরই প্রত্যাহার করা হয় এএসআই সুজনকে।
ওই নারী জবানবন্দিতে বলেছেন, অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা সুজনও তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। তবে পুলিশের ভয়ে তিনি মামলার এজহারে এএসআই সুজনকে আসামি করেননি।
ওই বিধবার স্বজনরা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১০ সেপ্টেম্বর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর গ্রামে কালা মিয়া ও তার ছেলে মাসুদসহ কয়েকজনের হামলার শিকার হয় ওই বিধবার পরিবার।
তখন ওই সোনাগাজী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী। তা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এএসআই সুজন। এরপর থানায় এক নারী প্রতারকের খপ্পরে পড়েন ওই নারী।
বিধবা ওই নারীর অভিযোগ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রহিমা নামে ওই প্রতারকের সহযোগিতায় সঞ্জু শিকদার, আফলাছসহ পাঁচজন তাকে ধর্ষণ করে।
ধর্ষকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সঙ্গে থাকা একটি স্বর্ণের আংটি, এক জোড়া কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নারী বাদী হয়ে দাগনভূঞা উপজেলার খোকন শিকদারের ছেলে মুচি সঞ্জু শিকদার, আফলাছ হোসেন এবং সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিকারী গ্রামের নূরুজ্জামানের মেয়ে রহিমাসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।
রহিমা তিন বছর ধরে মডেল থানায় কর্মরত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় বুয়ার কাজ করছিলেন। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে সঞ্জু শিকদার ও রহিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।