ক্যাম্পাস প্রতিবেদক, জাবি :
১৯৭০ সালের ২০শে আগস্ট প্রতিষ্ঠা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। প্রতিষ্ঠার পর পার হয়ে গেছে ৪৮ বছর। এই ৪৮ বছরে ছাত্রহত্যার ঘটনা ঘটেছে সাতটি, তবে বিচার কার্যকর হয়নি একটিরও যার ফলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা এখনো অধরা।
এ সাতটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সর্বপ্রথম ১৯৭৩ সালে জাকসুর প্রথম জিএস জাসদ নেতা শাহ বোরহান উদ্দীন রোকনকে হত্যা করা হয় নারায়ণগঞ্জে। জাকসুর জিএস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়।
দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ১৯৭৪ সালে, জাকসুর দ্বিতীয় জিএস মোজাম্মেল হক নিহত হন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে। এই দুজনকেই দাফন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পাশে।
তৃতীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ১৯৮৯ সালে। ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান কবির ছাত্রশিবিরের হাতে নিহত হন।
১৯৯৪ সালে ভর্তি পরীক্ষার ভাইভা দিতে এসে শিবির সন্দেহে ক্ষমতাসীন ছাত্রদলের হাতে খুন হন কামরুল নামের এক ছাত্র। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত ছিল সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকাল এবং অ্যান্টিলোকাল ছাত্ররাজনীতির কোন্দলে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের ছাত্র শওকত কবীর দীপু। তিনি ছাত্রদলের লোকাল গ্রুপের নেতা ছিলেন।
ষষ্ঠ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ১৯৯৭ সালের ১৮ই অক্টোবর। ছাত্রলীগের সেক্রেটারি গ্রুপের গুলিতে নিহত হন সভাপতি গ্রুপের ছাত্রলীগ নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আনন্দ কুমার ঘোষ। তার এই খুনের ঘটনায় সেক্রেটারি গ্রুপ ক্যাম্পাসে ‘কিলার গ্রুপ’ নামে পরিচিতি পায়। কিলার গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি কাঁকন। আনন্দ হত্যার ঘটনায় কিলার গ্রুপকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা ছাড়া আর কোনো বিচার হয়নি।
সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের হাতে খুন হন ৩৭তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের আহমেদ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৫ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জুবায়ের হত্যা মামলার রায়ে পাঁচজনকে ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজন পলাতক এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ছয়জনের মধ্যে একজন পলাতক বাকিরা কারাগারে।
এনএইচ/এবি