সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে মব করে অপহরণ, ছাত্রদল নেতা আটক লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়

‘যদি মন খুশি করতে পারো তবে চাকরি থাকবে’

আকাশবার্তা ডেস্ক :

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জেলা ব্যবস্থাপক আকছেদ আলীর বাজে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মিথ্যা চুরি ও দুর্বল কর্মীর অপবাদে বাগাতীপাড়া ব্র্যাক অফিস হতে চাকরিচ্যুত হয়েছেন দরিদ্র স্বামী পরিত্যাক্তা মরিয়ম খাতুন।

অসহায় নির্যাতিতা মরিয়ম খাতুন বড়াইগ্রাম উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. শিতাব আলী মন্ডলের মেয়ে। সে একজন স্বামী পরিত্যাক্তা তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র অসহায় নির্যাতিতা নারী। তার একটি কন্যা সন্তান আছে। বর্তমানে চাকরি না থাকায় চলার মত কোনো পথ নেই তার। এতে মা ও মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মরিয়ম খাতুন গত ২০১৪ সালের জুন মাসের ০১ তারিখে ব্রাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির পিও পদে সিংড়া বামিহাল অফিসে যোগদান করেন। পরে একই বছর সেপ্টেম্বর মাসে বাগাতিপাড়া ব্রাঞ্চে বদলি হয়ে আসেন। যাহার পিন নম্বর-(১৪৯৬২৬)। এরপর ২০১৫ সাল থেকে জেলা ব্যবস্থাপক আকছেদ আলী বিভিন্নভাবে সময় অসময় তাকে অফিসে ডাকতেন এবং বলতেন যে আমাকে যদি মন খুশি করতে পারলে তবে তোমার চাকরি থাকবে নইলে চাকরি থাকবে না। তাতে সে রাজি না হওয়ায় মিথ্যা চুরির অপবাদ ও দুর্বল কর্মী লিখে দেয় জেলা ব্যবস্থাপক আকছেদ আলী।

যে চারজনের টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে তারা হলেন- গত ২০১৫ সালের মে মাসের ২৭ তারিখে পল্লী সমাজের কমিটি ওয়ার্কশপ ট্রেনিং এ অংশগ্রহণকারী বিউটি খাতুন, স্বামী মনজুর রহমান-এর যাতায়াত বাবদ একশত টাকা এবং ২০১৬ সালের জুন মাসের ১০ তারিখে পাঁকা ইউনিয়ন সমাজ সভার ফাইমা মেম্বার, শিল্পী ও রাইমা ১৩ নং চিথলিয়া পল্লী সমাজের সদস্যদের যাতায়াত বাবদ ১৫০ টাকা।

তারা জানান, মরিয়ম খাতুনের বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে। এমনকি অফিসের বিল ভাউচারে নিজ হাতে স্বাক্ষর দিয়ে মরিয়ম খাতুনের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

দুর্বল কর্মীর অভিযোগে মরিয়ম বলেন, জেলা ব্যবস্থাপক আকশেদ আলী আমি দুর্বল কর্মী হওয়ায় আবারও আমাকে পাঁচটি কাজের টার্গেট দিলে আমি তা সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছি। আমার ভালো কাজের জন্যই আকছেদ আলী জেলা ব্যবস্থাপক থেকে প্রমোশন পেয়ে বর্তমান খুলনা বিভাগীয় আরএম হয়েছেন। সে আমার নাম ইচ্ছে করেই দুর্বল লিস্টে দিয়েছে এবং আমার যাতায়াত, মোবাইল, ইমেইলসহ যাবতীয় খরচসহ উক্ত মাসের বেতন ও বোনাস ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছে। যা এখনও পর্যন্ত আমাকে দেয়া হয় নাই। গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৯ তারিখে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ষড়ন্ত্রমূলকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে আমাকে।

এ ব্যাপারে ব্র্যাক ন্যায়পাল অফিসের বিচারক বলেন, মরিয়মের চাকরির বয়স অল্প, দুর্বল লিস্টে যাওয়ার বয়স তার হয় নাই এবং সে দক্ষ কর্মী হওয়ায় তার চাকরি ফেরত পাবে।

বিষয়টি নিয়ে জেলা ব্যবস্থাপক আকছেদ আলী মোবাইলের মাধ্যমে জানান, মরিয়ম খাতুন কোনো টাকা চুরি করেননি, কিন্তু তিনি ছিলেন একজন দুর্বল কর্মী, তাই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পন্ন মিথ্যা বলে আমি মনে করি।

এ বিষয় নিয়ে আরও জানার জন্য পরিচালক আন্না মিন্সের কাছে ফোন করা হলে তিনি জানান, সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির মরিয়ম খাতুন ২৫০ টাকা চুরি করেছে বলেই তার চাকরি গিয়েছে। ২৫০ টাকা চুরি করা যেমন অপরাধ ১০০০০ টাকা চুরি করাও তেমনি অপরাধ, চোর চুরি করলে তার চাকরি যাবে এটাই এনজিওর নিয়ম।

মরিয়মের এ বিষয়টি নিয়ে বাগাতিপাড়া থানা ফোন করলে জানা যায় অভিযোগটি তারা পেয়েছেন তবে কোনো তদন্ত করা হয়নি। তদন্ত করে তারা জানাবে বলে জানিয়েছেন। থানায় ওসি সাহেব না থাকায় এ বিষয় তদন্ত হয়নি।

বাগাতিপাড়া নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াঙ্কা দেবী পাল জানান, বিভিন্ন বিষয়ে তারা অভিযোগ পেয়েছেন তবে এ বিষয়ে মরিয়ম খাতুনের কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি পাননি।

তিনি আরও জানান, সে যোগদান করার আগে যে নির্বাহী অফিসার ছিলেন তিনি অভিযোগটি পেয়েছিলেন কিন্তু এ বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কিনা তিনি বলতে পারছেন না। তবে তিনি বলেছেন যদি লিখিতভাবে অভিযোগ পান তাহলে বিষয়টি দেখবেন।

পরিশেষে মরিয়ম খাতুন বার-বার একটি কথাই বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, সুতরাং আবারও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমাকে চাকরি ফিরিয়ে দেয়া হোক যেন আমি আমার পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি। আমার কাছে ডকুমেন্ট রয়েছে যা আমি প্রয়োজনে তদন্তের স্বার্থে দিতে পারি। তাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সকল সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার আকুল আবেদন আমার বিষয়টি আপনারা সদয় বিবেচনা সাপেক্ষে দেখে তিনটি প্রাণ রক্ষার্থে এগিয়ে আসবেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31