রবিবার ১লা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

‘পরিচিতরাও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন’

আইন আদালত ডেস্ক :

নিকট আত্মীয় ছাড়া কেউ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবে না, আইনের এমন বিধান আর কার্যকর থাকছে না। এখন থেকে পরিচিতরাও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন বলে রায় ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে এ রায়টি অন্তর্ভুক্ত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আগামী ৬ মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।আদালতে রিটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন-ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন।

গত ৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) নিকট আত্মীয় ব্যতিত মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার সুযোগ না রাখা সংকীর্ণ আইনের প্রসার বাড়াতে হাইকোর্টে অভিজ্ঞ মতামত দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পরে আদালত আগামী ২১ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তাদের বক্তব্য দাখিলের নির্দেশ দিয়ে মুলতবি শুনানি মুলতবি করেন।

পরে ২১ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি আদালতে এজলাস কক্ষে দাঁড়িয়ে ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়াই যেকোনো ধরনের কিডনি রোগ ভালো করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত কিডনি প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত আইন নিয়ে জারি করার রুলের রায়ের জন্য ৫ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলে ওই আইনের অধীনে ১৮ বছরেও বিধি প্রণয়ন না করায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। আদালতে রিট করেন ফাতেমা জোহরা নামের এক ব্যক্তি।

আইনজীবীরা জানান, ফাতেমা জোহরা ২০১৫ সালে তার মেয়ে ফাহমিদাকে একটি কিডনি দান করেন। এরপরও মেয়ের কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। বর্তমানে ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল। কিন্তু আইনগত বাধার কারণে মেয়েকে দাতার কাছ থেকে কিডনি দিতে পারছেন না তিনি। এ অবস্থায় তিনি রিট আবেদন করেন।

ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-১৯৯৯-এর ২-গ ধারায় দাতার সংজ্ঞা দেয়া আছে। সংজ্ঞায় দাতা হিসেবে নিকটাত্মীয়দের কথা বলা আছে। আর নিকটাত্মীয় বলতে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, পুত্র-কন্যা, চাচা, ফুফু, মামা, খালা ও স্বামী-স্ত্রীকে বলা হয়েছে।

কিন্তু ভারতে এ বিষয়ক আইনে নিকটাত্মীয়ের সংজ্ঞায় ওই কয়েকজন ছাড়াও নানা-নানি, দাদা-দাদি, খালাতো, মামাতো, চাচাতো ভাইবোনের কথা বলা আছে। এছাড়া ভারতের আইনে বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে নিকটাত্মীয় ছাড়াও অন্যরা দাতা হতে পারবে। এক্ষেত্রে ওই আইনে নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে কারা বিশেষ পরিস্থিতিতে দাতা হতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আইনে দাতাকে ১৮ বছর থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত বয়সের ব্যক্তি হতে হবে। মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্র নিতে হবে। আইনের এ বাধ্যবাধকতার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আইন অনুসারে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনা-বেচা নিষিদ্ধ। তাই আদালত কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনায় আদালত বলেছেন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ‘ইমোশনাল ডোনেশন’ হচ্ছে কিনা, তা যাচাই-বাছাই করার জন্য প্রত্যেকটি হাসপাতালে একটি করে প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে।

ওই বোর্ড আত্মীয়-স্বজনদের জিজ্ঞাসা করে দাতার সঙ্গে রোগীর পরিচয় নির্ণয় করবে। দাতা নিজ ইচ্ছায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করছেন কিনা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনা-বেচা হচ্ছে কিনা, দাতা মানসিকভাবে সুস্থ বা মাদকাসক্ত কিনা, তাও নির্ণয় করতে হবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১