আকাশবার্তা ডেস্ক :
এমপিওভুক্তির জন্য সকল শর্তাদি পুরণ থাকার পরেও তালিকায় স্থান পায় নি নওগাঁর রানীনগরের কুজাইল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। দীর্ঘ ১৯ বছরেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক, একজন নৈশ্যপ্রহরি ও একজন লাইব্রেরিয়ান রয়েছেন। মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। সংসারের খরচ চালাতে শিক্ষকতার পাশাপাশি হালচাষ পর্যন্ত করছেন তাদের কেউ কেউ।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। ২০১৬, ১৭ ও ১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশের রেকর্ড করেছে এই বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উত্তীর্ণসহ সমুদয় শর্তপুরণ করলে এমপিও ভুক্ত তালিকায় স্থান পাবেন এমনটি আশা করলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য খুলেনি তাদের।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রাব্বেল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ৬জন শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে চাকরি করছেন। বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখার মান এবং স্বীকৃতির ভিত্তিতে গত ঘোষণার তালিকায় স্থান পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আরা হলো না। বিদ্যালয়টির প্রতি সুদৃষ্টি দিয়ে এমপিও ভুক্ত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে কুজাইল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলী হোসেন ও মো: এমরান আলীসহ জানান, শুন্যপদে চাকরিতে যোগদান করার পর থেকে বিনা বেতনে প্রায় ১৯টি বছর শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে আনন্দ করা তো দুরের কথা টিউশনি ও হালচাষ করে সে সময় বাড়তি আয় করি। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এই সময়ে সংসার পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে আমাদের।
বিদ্যালয়টি দ্রুত এমপিও ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে রানীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল শিক্ষক- কর্মচারীদের মানবেতর জীবন যাপনের কথা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভাল রয়েছে। আসা করছি আগামীতে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হবে।
জানা গেছে, রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল এলাকায় নারী শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৯৫ সালে কুজাইল বালিকা বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন স্থানীয় গন্যমান্য ও সচেতন ব্যক্তিরা।
পড়ালেখার মান এবং যোগ্যতা বলে ১৯৯৯ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায় এ প্রতিষ্ঠানটি। ২০০০ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত তালিকায় স্থান পায়।