আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকাল। গুলিস্তানে চলতি পথে হুট করে দুজন লোক এসে পথচারী কামালের পথরোধ করে। তাকে স্যার সম্বোধন করে নিজেকে একজন রিকশাচালক পরিচয় দেন (আব্দুর রশিদ হাওলাদার)। আর অপরজন তার আত্মীয় (মানিক কুমার দাস)। বিভিন্ন কথার ছলে তারা কামালের আস্থা অর্জন করে ফেলে।
এরপর রশিদ কামালকে বলে, সে কিছুদিন আগে এক ব্যক্তিকে (যাত্রী) গুলশানে তার গন্তব্যস্থলে নামিয়ে দিয়েছিল। ওই ব্যক্তি নেমে যাওয়ার পর রশিদ তার রিকশায় একটি ব্যাগ খুঁজে পায়। ব্যাগ খুলতেই তাতে দেখতে পায় অনেকগুলো বিদেশি টাকা।
পরে তার আত্মীয় মানিক তাকে বলে সেগুলো সৌদি রিয়াল। ক্রমেই বিষয়টিতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠে কামাল। আরও জানতে চায় রশিদের কাছ থেকে। তখন রশিদ তার কাছ থেকে জানতে চায়, কীভাবে এই টাকাগুলো ভাঙাবে সে। যদি আইনি সমস্যা হয়?
এসব কথাবার্তার মধ্যেই রশিদ প্রস্তাব রাখে সে খুবই কম দামে রিয়ালগুলো বিক্রি করে দেবে। কামাল সেগুলো দেখতে চায়। তখন রশিদ একটি বান্ডিল থেকে একটা ২০ রিয়ালের নোট বের করে কামালকে দেখায়।
ব্যাস কামাল মনঃস্থির করে ফেলে, সে নোটগুলো কিনবে। সে রশিদকে ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে রিয়ালগুলো দিয়ে দিতে বলে। প্রথমে কিছুটা অমত প্রকাশ করলেও, রশিদ তাকে তড়িঘড়ি করে রিয়ালের বান্ডিলটা দিয়ে কামালের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। তারপর যে যার পথে চলে যায়।
দুই-তিন মিনিট পর কামাল নিজে পরীক্ষা করে দেখতে চায় বান্ডিলের সবগুলো রিয়াল আসল কি-না। কিন্তু কাগজের প্যাকেটটি থেকে বান্ডিল বের করে তা ছুটাতেই কামালের মাথায় হাত।
বান্ডিলের উপরে একটি রিয়াল এবং পেছনের একটি রিয়াল ছাড়া বাকি সবই সংবাদপত্রের কাটা অংশ। অর্থাৎ ১১ হাজার টাকা দিয়ে সে ৪০ রিয়াল কিনলো! তখন তার বুঝতে বাকি থাকে না, সে প্রতারিত হয়েছে।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে কাগজ দিয়ে টাকা বানিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণাকারী মো. আব্দুর রশিদ হাওলাদার (৪৫) ও মানিক কুমার দাসকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণের কোতোয়ালি জোন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাদের গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহূত কাগজ দিয়ে তৈরি টাকার বান্ডিল, চেতনানাশক মলম, ওষুধ ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া ১৩ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের ফুলবাড়িয়া ট্রাফিক বক্সের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. রফিকুল ইসলাম আমার সংবাদকে জানান, কামাল নামে এক পথচারী সকাল ৯টার দিকে ট্রাফিক বক্সে এসে অভিযোগ করে, দুইজন ব্যক্তি কাগজের তৈরি টাকার বান্ডিল দিয়ে প্রতারণা করে তার কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা নিয়েছে।
এমন অভিযোগে তাৎক্ষণিক গুলিস্তান এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও প্রতারকদের পাওয়া যায়নি। এতে ভিকটিম কান্নাকাটি করে চলে যায়। কিন্তু থেমে থাকেনি পুলিশ। তারা আশপাশ এলাকায় সজাগ দৃষ্টি রাখে এমন কোনো প্রতারককে পাওয়া যায় কি-না।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে টিআই রফিকুল ইসলাম দেখতে পান, অপর একজন ব্যক্তিকে দুইজন টাকার বান্ডিল দিয়ে প্রতারণা করছে। সঙ্গে সঙ্গে অন্য ফোর্স নিয়ে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেন তিনি।
গ্রেপ্তারের পর তল্লাশি করে জনৈক পথচারীর ১১ হাজার টাকাসহ ১৩ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে উল্লিখিত মালামাল জব্দ করে দুই প্রতারককে বংশাল থানায় হস্তান্তর করে ট্রাফিক পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা গুলিস্তান এলাকায় নিয়মিত সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়। এই কাজে তারা কাগজ দিয়ে তৈরি টাকার বান্ডিল ব্যবহার করে থাকে। এ ব্যাপারে বংশাল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।