আকাশবার্তা ডেস্ক :
চলচ্চিত্র তারকা শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদেক এমপি হতে চান। সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ওয়াহিদ সাদিক।
এ বিষয়ে তিনি জনসংযোগও শুরু করেছেন। তিনি মনোনয়ন পেলে আপত্তি থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় শাবানার শ্বশুরবাড়ি কেশবপুর উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামে এক সভার আয়োজন করা হয়। শাবানা ও ওয়াহিদ সাদিক এতে অংশ নেন।
সভায় শাবানা তার স্বামীর প্রার্থিতার জন্য উপস্থিত লোকজনের মতামত প্রত্যাশা করেন। উপস্থিত সবাই হাত তুলে শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদিককে প্রার্থী হওয়ার পক্ষে সমর্থন দেন।
সভায় শাবানা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বিভিন্ন সময় প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বলেছেন।
কিন্তু আমি সন্তানদের সময় দিতে চাই। এছাড়া কেশবপুর আমার শ্বশুরবাড়ি। এখান থেকে প্রার্থী হলে আমার স্বামীই হবেন। আমি তার জন্য আপনাদের সমর্থন প্রার্থনা করছি।
ওয়াহিদ সাদিক বলেন, কেশবপুর আমার জন্মস্থান। ফলে জন্মস্থানের উন্নয়নে সবসময় কাজ করার তাগিদ বোধ করি। যে কারণে এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি হতে আপনাদের সমর্থন কামনা করছি। আপনারা সমর্থন দিলে মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ শুরু করবো।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে শূন্য যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখনও প্রার্থী ঠিক করেনি।
দেশের পাট অনেকটাই চুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আবাস নেয়া আফরোজা সুলতানা রত্না (শাবানা) দেশে আসা বাড়িয়ে দেয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন বলে গত সংসদ নির্বাচনের আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। কিন্তু তা ঘটেনি।
ইসমাত আরা সাদেক সম্প্রতি মারা গেলে আবারও শুরু হয়েছিল সেই গুঞ্জন, তার মধ্যেই শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদেক তার ইচ্ছার কথা জানালেন।
এদিকে শাবানার শ্বশুর বাড়িতে আসার খবরে দূর-দূরান্তের মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করেন বড়েঙ্গা গ্রামে।
চট্টগ্রামের মেয়ে রত্নার চলচ্চিত্রে পা রাখা শাবানা নাম নিয়ে ১৯৬৭ সালে চকোরী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
তারপর অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গনে কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছে যান।
১০ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী শাবানা ২০১৭ সালে চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননাও পান।
কেশবপুরে ইসমাত আরা সাদেকের স্বামী এ এইচ এস কে সাদেক এক সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সালের সরকারে শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন।
স্বামীর পর ভোটের লড়াইয়ে নামা ইসমাত আরা ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার তিনি সংসদ সদস্য হলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি।
গত ২১ জানুয়ারি ইসমাত আরা মারা যান। সেই হিসাবে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে এই আসনে উপ-নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন সংসদ সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে সবগুলো নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে।
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই ইসির উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করার কথা।