আইন আদালত ডেস্ক :
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান অত্যন্ত অশালীন ও রূঢ় ব্যবহার করায় তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য আউয়াল ও তার স্ত্রী দুর্নীতির মামলায় পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের জামিনের আবেদন নাকচ করে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশে দিয়েছিলেন জেলা জজ আব্দুল মান্নান।
এরপর পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়ালের সমর্থকদের বিক্ষোভ-ভাংচুরের প্রেক্ষাপটে জজ আব্দুল মান্নানকে বদলি করা হয়।
বিকালে পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব নিয়ে নাহিদ নাসরিন আওয়ামী লীগ নেতা আউয়াল ও তার স্ত্রীকে জামিন দেন।
এনিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, পিরোজপুরে জেলা জজের কাছে পিরোজপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তার স্ত্রীর দুর্নীতির মামলার জন্য জামিন চাইতে গিয়েছিলেন।
জামিন চাওয়ার সময় তার আইনজীবী এবং বারের সকল আইনজীবীর সঙ্গে আমরা যে তথ্যাদি পেয়েছি, জেলা ও দায়রা জজ অত্যন্ত অশালীন এবং রূঢ় ব্যবহার করেন। সেই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এমন একটা অবস্থা দাঁড়ায়, যেখানে বারের সকলে আদালত বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই অবস্থায় যখন এসব গণ্ডগোল চলছিল এবং রাস্তায় লোকজন বেরিয়ে গিয়েছিল, সেটাকে কন্ট্রোল করার জন্য তাকে (জজ) ওখান থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক বদলি) করে আদেশ দেয়া হয়, আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে।
জেলা জজের এ ব্যবহার করা সমীচীন হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলছেন, ‘সিচুয়েশনটাকে প্রশমিত’ করতেই আওয়ামী লীগ নেতা আউয়াল ও তার স্ত্রী জেলা মহিলা লীগের সভাপতি লায়লা পারভীনকে জামিন দেয়া হয়েছে এবং এতে আইনের শাসনের ‘ব্যত্যয় হয়নি’।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় পিরোজপুর-১ (নাজিরপুর, পিরোজপুর সদর ও নেছারাবাদ) আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী লায়লা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপরই এক আদেশে ওই জজকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়াল ও তাঁর স্ত্রী লায়লা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর পর জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানকে বদলির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আউয়ালকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় মুহূর্তেই আদালত পাড়াসহ পুরো শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পিরোজপুর শহরসহ জেলার নাজিরপুর, মঠবাড়িয়ায় সব দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
নেতাকর্মীরা সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ করায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব সড়কে প্রতিবাদ মিছিল করে আউয়ালের অনুসারীরা।