আকাশবার্তা ডেস্ক :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর ঘাটে যাত্রী ছাউনি থেকে এক গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।
নিজের পরকীয়া প্রেমিকের দেয়া থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতেই গৃহবধূ ও তার স্বামী মিলে এ নাটক সাজিয়ে থানায় মামলা করেছে। পুলিশের তদন্তে এ রহস্য বের হয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের অ্যাডিশনাল এসপি (অপরাধ ও প্রশাসন) জামাল পাশা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
অ্যাডিশনাল এসপি বলেন, গত ১৬ জুন ওই গৃহবধূ থানায় এ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের একটি অভিযোগ করেন। ঘটনা তদন্তে নেমে দিনের বেলা গোপালপুর ঘাটের মতো একটি জনসমাগম এলাকা থেকে চার যুবক ওই গৃহবধূর মুখ বেঁধে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগটি অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হয় পুলিশের কাছে। এরপর মূল রহস্য বেরিয়ে আসে।
তিনি জানান, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে শাহীন মোল্যা নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনার পর শাহিন ও অন্যদের মোবাইল কললিস্ট যাচাই করা হয়। তাতে অভিযোগের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেছিলেন ঘটনার দিনে তার স্বামী লিটন ঢাকায় থেকে এসেছে। কিন্তু কললিস্ট চেক করে দেখা যায় লিটন ওইদিন তার গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন। পার্শ্ববর্তী সদরপুর থানায় দায়েরকৃত একটি ডাকাতি মামলায় এ লিটন দুই মাস জেলে ছিলো। এই সুযোগে লিটনের মামাতো ভাই রাজু মণ্ডলের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। যা পরে পরিবারের লোকজন জেনে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূ জানান যে, গত ১৪ জুন রোববার প্রেমিক রাজুর সঙ্গে গোপালপুর ঘাটে তার দেখা হয়। সেদিন কথাবার্তার এক পর্যায়ে রাজু তাকে থাপ্পড় মারে। পরে তার স্বামী এসে তাকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ ক্ষিপ্ত হয়। আর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণে লিটন আগে থেকেই রাজুর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলো। এ কারণে তারা ওই মিথ্যা অভিযোগ সাজায় রাজু ও অন্যদের বিরুদ্ধে।