আকাশবার্তা ডেস্ক :
*আক্রান্ত ও মৃত্যুর সূচক সমান্তরালে চলছে
*সংক্রমণ কমছে না বরং গ্রামে বাড়তে পারে ভয়াবহতা
*কবে নাগাদ কমতে পারে সংক্রমণ নেই সুনির্দিষ্ট তথ্য
*স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জোর দিচ্ছে সরকার
*গত একদিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মৃত্যু সমান
*প্রতিনিয়ত সুস্থতার হার বাড়ছে
করোনা সংক্রমণের সাড়ে তিন মাস পেরিয়েছে। সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ছে। কমার কোনো লক্ষণ নেই। সমান্তরালভাবে চলতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সূচক। কোনোদিন নমুনা সংগ্রহের হার কমলে কমে আসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
গতকাল একদিনে প্রায় চার হাজার নমুনায় কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬২১ জনে। স্থবিরতা কাটছে না জনজীবনে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে অর্থব্যবস্থা।
এভাবে ঠিক কতদিন চলবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে সহসাই যে পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে না এ বিষয়ে মতো বিশেষজ্ঞদের।
গতকাল বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, করোনা সংক্রমণের মূল প্রবাহ তো এখনো আসেনি। আগামী এক-দু মাস পর এটা যখন গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে, তখন এর মূল প্রবাহ দেখা দেবে।
করোনা সমস্যার কীভাবে সমাধান করবে, সেটা সরকারের চিন্তার মধ্যে নেই। করোনা থেকে দেশকে মুক্ত করতে একটা সুস্থ স্বাস্থ্যব্যবস্থা দরকার।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও বলেছিলেন, করোনা সহসাই বিদায় নিচ্ছে না। বেশ কবছর থাকতে পারে। যদিও পরে এ বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
করোনা ভাইরাস ঠিক কতদিন থাকবে— এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও সরকারি সংস্থাটি এখনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জোর দিচ্ছেন। জটিল রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বাসায় অবস্থান করতে বলছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীসহ সারা দেশে ৬৬টি সরকারি বেসরকারি ল্যাবে এখন করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে। এসব ল্যাবে গত একদিনে ১৭ হাজার ৫৮৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৯টি। এতে নতুন করে ৩ হাজার ৯৪৬ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এতে এক লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জনের নমুনায় করোনার উপস্থিতি মিলেছে। নতুন ৩৯ জনসহ এ পর্যন্ত এক হাজার ৬২১ জনের মৃত্যু হয়েছে আর ৫১ হাজার ৪৭৫ জন সুস্থ হয়েছে।
পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৯২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৮ শতাংশ।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) তথ্যমতে, এক হাজার ৬২১ জন করোনায় মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে ২৩ শতাংশ নারী ও তার প্রায় সাড়ে তিনগুণের বেশি বা ৭৭ শতাংশ পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের হিসেবেও নারীর অন্তত তিনগুণের বেশি পুরুষ। মোট আক্রান্তের ২৯ শতাংশ নারী ও ৭১ শতাংশ পুরুষ রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে অংশ নিয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং সাতজন নারী।
বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ জন এবং বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ জন।
অঞ্চল বিবেচনায় এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে পাঁচজন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, ময়মনসিংহ বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং বরিশাল বিভাগে দুইজন রয়েছেন। গত একদিনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৬৪৫ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৩ হাজার ৪২৯ জন।
এসময় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩৭৪ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন ৯ হাজার ৮০ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ২২ হাজার ৫০৬ জনকে।
এছাড়াও গত একদিনে প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টাইন মিলে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে দুই হাজার ৬৫৬ জনকে। এখন পর্যন্ত তিন লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৭ জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে।
কোয়ারেন্টাইন থেকে গত একদিনে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৬১৮ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন দুই লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৯ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৬৩ হাজার ৯৯৮ জন।