শনিবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

বিজয়ের মাসে তরুণদের ভাবনা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই সূচনা হয় নতুন দেশ বাংলাদেশের । ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হয় হানাদার বাহিনী। আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আমার সোনার বাংলা।  স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এই বাংলাদেশের আছে নানা অর্জন ” বিজয় দিবস”। বিজয়ের মাসে কী ভাবছেন তরুণরা?  

কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের ভাবনা নিয়ে তুলে ধরেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী যোবায়ের ইবনে আলী

সুবর্ণ জয়ন্তীর দারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নতুন স্বপ্ন 
হাসিব চৌধুরী (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) : ১৯৭১!বাংলাদেশের  ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সাল।৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। স্বগৌরভে উত্তোলিত হয় লাল সবুজের পতাকা। বিশ্বে পেল এক নতুন স্বাধীন দেশ।স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নতুন স্বপ্ন দেখে দেশবাসী। স্বয়ংসমপূর্ণ বাংলাদেশ সকলে দেখতে চায়। একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলেই সকল বাধা অতিক্রম করে আধুনিক বিশ্বের সাথে দৌড়ে এগিয়ে থাকবে এই সুন্দর দেশ।প্রয়োজন আমাদের আন্তরিকতাপূর্ণ আচারণের, দেশকে ভালবাসার দৃঢ় প্রত্যয়ের। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব সকল নাগরিকের। দেশকে ভালোবেসে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলাই হোক এই বিজয় মাসের অংগীকার।

এগিয়ে যাক প্রিয় মাতৃভূমি 
মোঃ ফাহাদ হোসেন ( নোবিপ্রবি) : ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ  স্বাধীনতা লাভ করে।  এ অর্জনের পিছনে সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা ছিলো তরুণ প্রজন্মের।  বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে হলে এগিয়ে আসতে হবে দেশের তরুণ প্রজন্মকে।  বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ মাদক ও বেকারত্ব। মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে। বেকারত্ব অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে হলে স্বাধীনতার মূল চেতনা ও আর্দশে বলীয়ান হয়ে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে হবে। দেশপ্রেমকে কেবল মুখে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না। বরং দেশপ্রেমকে বাস্তবায়ন করতে হবে নিজের প্রতিটি কাজের মধ্যে।  ৩০ লাখ শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের  স্বাধীনতার  আমানত রক্ষা করতে হবে আমাদের। কথায় আছে ” স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন “। বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক সে চেতনা বা দেশাত্মবোধ- এটাই চির প্রত্যাশা। এগিয়ে যাক প্রিয় স্বদেশভূমি বাংলাদেশ ।

“বিজয়ের পঞ্চাশ বছর পর কেমন বাংলাদেশ চাই?”

রুদ্র মোসাদ্দেক (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) : প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব ইতিহাস আছে, ঠিক তেমনি আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশেরও আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। যে ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল মহান ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আর তা নানান পথ পাড়ি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে পূর্ণতা পেয়েছিল। আমরাই প্রথম জাতি, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বিজয়ের পঞ্চাশ বছর পর আমাদের তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চিন্তাভাবনার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। দীর্ঘ ৯ মাসের সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। আজ বিজয়ের মাসে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি অগণিত মুক্তিযোদ্ধাকে, যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের দেশ, প্রিয় মাতৃভূমি। বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। আগামী দিনের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব। আমরা এমন সৎ গুণাবলী সম্পন্ন নেতৃত্ব চাই যাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারবে‌। বিজয়ের মাসে এমন আশা আমরা রাখতেই পারি।

তরুণদের হাতেই বাংলাদেশ 

নাজমুস সাকিব (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) : ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে  পাওয়া  বিজয় একটি দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল  ভেঙ্গে মুক্ত বাতাসে চষে বেড়ানোর স্বাদ দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে  তরুণ সমাজ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। বিজ্ঞান মুখী হয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে।  বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামেও তরুণ সমাজের তেজ একটুও কমেনি৷ নূর হোসেন যার তেজোদ্দীপ্ত উদাহরণ।  আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্যে  নিজেকে গড়ে তুলছেন অনেক তরুণ। খেলাধুলার মাধ্যমেও বিশ্ব জেনেছে এক বাংলাদেশের নাম। তবে আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে তরুণরা দেশি সংস্কৃতি বিমুখ হয়ে যাচ্ছে যা সমাজব্যবস্থার জন্য চিন্তার  বিষয়। সমাজ ব্যবস্থা  থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রত্যেক স্তরে এর প্রভাব পড়বে। তরুণরাই পারে তাদের সুপ্ত ইচ্ছা গুলোর সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক মিশ্রণ ঘটিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।  ধীরে ধীরে সকল  বাধা ব্যবধান পেরিয়ে তরুণ সমাজ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে  কাজ করে যাচ্ছে।   আর এর  জন্য অবশ্যই  প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরো শক্তিশালী হলে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌছাতে সক্ষম হব।

অধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তির মাস 

আশরাফিয়া আভা (হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) : অধীনতা একটি অভিশাপ। এই অভিশপ্ত দীর্ঘ পথ অতিক্রমের পর১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর আমরা নিজেদের মুক্ত করি। হাজারাে ত্যাগের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি আমাদের সাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরে কি আমরা আমাদের শহীদের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি? জাতি হিসেবে আজও আমরা অনেক পিছিয়ে। শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ ঘটলেও উন্নতির পথে এখনও অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। গ্রামীণ জীবন উন্নত থেকে উন্নতর হলেও তারা এখনও অনেক সুবিধাবঞ্চিত। এদেশে নারীদের সুরক্ষা আজও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ এমন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন না আমাদের শহীদেরা।আর তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের তরুণ সমাজকেই। ১৯৭১ সালে যদি তরুণরা জাগ্রত না হত তাহলে কি পাড়তাম বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করতে? এখনই সময় তরুণ প্রজন্মের এগিয়ে আসার। লাখাে শহীদের রক্তে রাঙানাে বাংলার পতাকার মর্যাদা রক্ষার।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮