বিশেষ প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানতপুর গ্রামের তালতলা এলাকার মানুষ সন্ত্রাসী বাহার ও তার বাহিনীর সদস্যদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার বক্তার বাড়ির মৃত ইব্রাহিমের পুত্র বাহার উদ্দিন বাহার এলাকার কিছু বখাটে যুবককে নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেছে। এরপর দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি জবর দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছে।
সন্ত্রাসীদের অন্যায়, অবিচার, জুলুমের প্রতিবাদ করলেই ওই ব্যক্তির উপর নেমে আসে নির্যাতন। তাদের জবর দখল থেকে রেহাই পাচ্ছেনা সরকারি সম্পত্তিও। চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর রাস্তার পাশে সড়ক ও জনপদ বিভাগের পতিত জায়গায় (ডোবা) স্থানীয় আমানতপুর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহুবছর আগ থেকেই মাছ চাষ করে আসছেন। মাদ্রাসার এতিম, অসহায় শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এলাকাবাসীও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করে আসছিলেন। কিন্তু গত ২৮ মে/ইং তারিখে বাহার উদ্দিন উক্ত জায়গাটি তার দাবি করে বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ’বাহার মাৎস খামার’ নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। এরআগে বাহার ডোবাতে বিষ প্রয়োগ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চাষকৃত মাছগুলো মেরে ফেলে।
পানিতে বিষ প্রয়োগ করায় মাছগুলো মরে পঁচে ভেসে উঠায় ছড়িয়ে পড়েছে দূর্গন্ধ। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।
এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যান কামাল হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাদের পক্ষে কথা বলায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদা খানম ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এমতাবস্থায় এলাকার শান্তি-শৃংখলা রক্ষার্থে সরকারি সম্পত্তি দখলকারী, বিষ দিয়ে মাছ নিধন ও পরিবেশ দূষণকারী বাহার বাহিনীর প্রধান বাহার ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান সাজিদ জানান, এলাকাবাসী কোনো অভিযোগ দিয়েছে কীনা তা এ মূহুর্তে বলতে পারছিনা। তবে অভিযোগ ফেলে অবশ্যই বিষয়টি আমরা দেখবো।