সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

সালিশ না মানায় ৩ পরিবারকে ৫ বছর সমাজচ্যুত

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

মৌলভীবাজারে তিনটি পরিবারকে পাঁচ বছরের জন্য সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গ্রাম্য সালিশ না মানায় তাদের সমাজচ্যুত করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী সমাজচ্যুত করার কোনো বিধান নেই। তারপরও এসব পরিবারের সদস্যদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে গ্রামের মানুষদের কোনো ধরনের লেনদেন, ওঠাবসা নিষেধ। এমনকি তাদের পরিবারের কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে, তাদের কাছে গ্রামের অন্য বাসিন্দাদের যাওয়া বারণ করেছেন প্রভাবশালী সালিশকারীরা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজল আহমদ।

তিনি বলেন, জায়গা নিয়ে তার দাদার ভাই তোরাব আলীর নাতি পাখি মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশকারী ও পঞ্চায়েত কমিটিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে গেলে তারা সালিশের সময় দেন ২০২০ সালের ১৯ জুন।

সালিশকারীদের মধ্যে রয়েছেন-পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়া, চেরাগ মিয়া, চুনু মিয়া, হান্নান মিয়া, কাদির মিয়া। সালিশের দিন জায়গার কাগজপত্রও তাদের কাছে নেন। সালিশে কাজল ন্যায়বিচার চান। তবে রেকর্ডে এক শতাংশ জায়গার মালিক হলেও গ্রাম্যপঞ্চায়েতে সালিশকারীরা সেই জায়গা বুঝিয়ে দেননি। এরপর ৩ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সালিশকারীরা ৫ ডিসেম্বর তাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করেন। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এলাকার লোকদের যেতে বারণ করেন। এতে তাদের কয়েক লাখ বকেয়া টাকা আদায় সম্ভব হচ্ছে না।

কাজল আরও বলেন, তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা দেয়া হয়। এমনকি গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হয় না। এভাবে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়।

এমনকি তাদের ছেলে-মেয়েদের মক্তব্যে যেতে নিষেধ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে বিবাদী পাখি মিয়া, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়া, সদস্য চেরাগ মিয়া, চুনু মিয়া, হান্নান মিয়া, কাদির মিয়ার নাম উল্লেখ করে সমাজচ্যুত করার কারণ জানতে চেয়ে ১৪ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

তিনি আরও বলেন, ওই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে পরিবার তিনটিকে ৫ বছরের জন্য চূড়ান্তভাবে সমাজচ্যুত করা হয়।

কাজল আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এমনকি তাদের শিশুদেরও অন্য শিশুদের সঙ্গে মিশতে দেয়া হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার ভাই সমাজচ্যুত আকমল হোসেন ও সমাজচ্যুত আরেকটি পরিবারের সদস্য জুবেল আহমদ।

এ বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়া বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলবেন না। তবে পঞ্চায়েত কমিটির অপর সদস্য চুনু মিয়া পরিবার তিনটিকে সমাজচ্যুত করার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ভূকশীমইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বলেন, এই পঞ্চায়েত কমিটির মধ্যে সমস্যা আছে। তারা একেক সময়, একেক পরিবারকে সমাজচ্যুত করে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় বলেন, ‘সমাজচ্যুতের বিষয়টি সমাজের বিষয়, তবে কাজল আহমদ জায়গা নিয়ে মারামারির যে মামলা করেছেন, সেটা তদন্ত করে রিপোর্ট কোর্টে দেব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, সমাচ্যুত করার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এ রকম হয়ে থাকলে, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সভ্য সমাজে এ রকম সমাজচ্যুতের ঘটনা ঘটতে পারে না, আইন অনুযায়ী সমাজচ্যুত করার কোনো বিধান নেই।
এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31