বিশেষ প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পশ্চিমাঞ্চলের ত্রাস, থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহাগ বাহিনীর প্রধান নূরআলম সোহাগকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৪জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের তার নিজবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে জোড়াখুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে চন্দ্রগঞ্জ বাঁধের গোড়ায় বেদেপল্লীর বেলালকে গুলি করে পালিয়ে যায় সোহাগসহ তার দুই সহযোগি। এ ঘটনায় সোহাগকে প্রধান আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিম বেলালের পিতা কালা মিয়া। এছাড়াও সোহাগের বিরুদ্ধে চৌমুহনীর জোড়াখুন মামলাসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, বিগত ২০১৩/১৪ সালে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় সোহাগ বাহিনীর বিরুদ্ধে রাস্তায় চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেলসহ সর্বস্ব লুটপাট ও ছিনতাই করার অভিযোগ রয়েছে। তার অত্যাচারে জগদীশপুর এলাকাসহ ৫টি গ্রামের সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এ দিকে সোহাগের অন্যতম সহযোগি মহরম বাড়ির আব্দুস ছাত্তারের ছেলে লিটনকে শনিবার বিকেলে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোহাগের অন্যতম আরো দুই সহযোগি রাসেল ও শুভকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সোহাগের নেতৃত্বে ৩০/৪০ সদস্য বিশিষ্ট একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এর মধ্যে কিশোর বয়সের সন্ত্রাসী রয়েছে ১৫/২০ জন। মূলত পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অপরাধ কর্মকান্ডে কিশোরদের ব্যবহার করা হয়। তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সন্ত্রাসী সোহাগ বাহিনীর সোহাগকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বেগমগঞ্জ মডেল থানার এসআই জসিম উদ্দিন জানান, রোববার দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামি সোহাগকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।