আকাশবার্তা ডেস্ক :
হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না উল্লেখ করে তার বড় ছেলে আবদুর রহমান একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
শনিবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টন থানায় তিনি এই জিডি করেন। জিডিতে আব্দুর রহমান তার নিজের ও মায়ের জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা বলেন। একইসঙ্গে তার মায়ের তিনটি ডায়েরি সংরক্ষণের বিষয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
পল্টন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেন্টু মিয়া বলেন, জান্নাত আরা ঝর্ণার ছেলে থানায় এসে একটি জিডি করেছে। সে কোথায় থাকছে, তার খোঁজ আমরা রাখব, যেন তার কোনো সমস্যা না হয়। জিডির তদন্ত শুরু হয়েছে। আর তার মা কোথায় আছে, সেটিও দেখা হবে।
পল্টন থানার ওসি আবদুল লতিফ শনিবার রাতে বলেন, আবদুর রহমান তার মায়ের সন্ধান ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন। একজন এসআইকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীর (জান্নাত আরা ঝর্ণা) সঙ্গে অবস্থান করার সময় অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। ওই দিন তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সঙ্গে থাকা ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। যদিও কয়েকটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রী জানতেন না। তা ছাড়া রিসোর্টে কথিত স্ত্রী ঝর্ণার সঠিক নাম বলেননি মামুনুল।
মামুনুল হক হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। রয়্যাল রিসোর্টে তিনি ঘেরাও থাকা অবস্থায় স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার দুই সন্তান আবদুর রহমান ও তামিম তাদের বাবার সঙ্গে খুলনায় থাকে। আবদুর রহমান কয়েক দিন আগে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল হক সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিচার দাবি করে। পাশাপাশি আবদুর রহমান তার মা-বাবার বিচ্ছেদ ও তাদের পরিবার ধ্বংসের জন্য সরাসরি মামুনুল হককে দায়ী করে।