মঙ্গলবার ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি

কষ্ট পেয়ে ভালোবাসতে শেখায় রমজান

আকাশবার্তা ডেস্ক :

আল্লাহর ভালোবাসা পেতে উপবাস করে বান্দা। রোজার মূল উদ্দেশ্যই হল মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। রোজার দিনের উপবাসজুড়েই বান্দার সঙ্গে আল্লাহর এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার একটা ভালোবাসার আদান-প্রদান হতে থাকে। একটা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠতে থাকে।

আল্লাহ চোখ বুলিয়ে দেখতে থাকেন, বান্দা নিজের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে তাঁর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে। হৃদয়ের দরজায় বারবার আল্লাহর ভালোবাসার শব্দাবলি কড়া নাড়ছে। ক্ষুধা, পিপাসা- সবকিছু বরণ করে নিচ্ছে বান্দা।

নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নয় বরং রিপুর তাড়নাকে দমন করে আল্লাহর প্রতি নিজের প্রেমের পরিচয় প্রকাশ করছে। এসব আল্লাহ দেখেন এবং রোজাদারের ভালোবাসার টানে বান্দাকে আরও কাছে টেনে নেন।

সিয়ামসাধনা প্রকৃত অর্থেই একটি ভালোবাসা-জাগানিয়া প্রকল্পের নাম। আল্লাহর জন্য এই ভালোবাসায় বান্দার ঈমান পরিপূর্ণ হয়। পরিপক্বতা আসে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আল্লাহর জন্য দান করে, আল্লাহর জন্য বারণ করে, আল্লাহর জন্য মহব্বত করে, আল্লাহর জন্য দুশমনি করে, আল্লাহর জন্য বিয়ে-শাদি দেয়, তার ঈমান পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জামে তিরমিজি একজন মুত্তাকি-পরহেজগার আল্লাহভীরু বান্দা যেমন ইহজগতে অন্যের বন্ধু হন, পরোপকারী হন, কিয়ামতের দিনও সে অন্যের বন্ধুই থাকবে। শত্রু হবে না। মহান আল্লাহতায়ালাও এ বিষয়টি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহতায়ালা কোরআন মাজিদে বলেছেন, সেদিন বন্ধুরা একে অন্যের শত্রু হবে, মুত্তাকিরা ছাড়া। সূরা যুখরুফ : আয়াত ৬৭।

রমজানে আমরা কেন রোজা রাখি? রোজায় কী উপলব্ধি হয় আমাদের? আমরা নির্ধারিত সময়ে কিছু খাই না। পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকি। এর কারণ কী? যে ভাই ক্ষুধায় দিন কাটায়, নিজে ক্ষুধার্ত না হয়ে তা তো বুঝে আসার কথা নয়। রোজায় আমরা হতদরিদ্র মানুষের সেই ক্ষুধায় কাতর হওয়া উপলব্ধি করতে পারি। গরিবের প্রতি দয়াশীল হতে পারি। এটাই তো বুখারি শরিফেও বিবৃত হয়েছে।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তোমরা পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের প্রতি হিংসাপরায়ণ হইও না, পরস্পরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হইও না, পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদন করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। কখনও কোনো মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার (মুসলিম) ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বন্ধ রাখে। সহিহ বোখারি। নবী (সা.) বলেছেন, রোজা হল সহমর্মিতার মাস।

সিয়ামসাধনায় সত্যিই এক আল্লাহর বান্দা আরেকজনের প্রতি সহমর্মী হয়ে ওঠে। হৃদয়ে দয়াপ্রবণতা জাগ্রত হয়। অন্যকে ভালোবাসতে শেখায় রোজা। আল্লাহতায়ালা আমাদের সিয়াম সাধনার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের প্রতি স্নেহপরায়ণ ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার তাওফিক দিন। আমীন।

লেখক : বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০