আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে প্রকাশ্যে শাহিন উদ্দিনকে (৩৩) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আউয়ালকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি মাজার থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকেলে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংস্থার পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) কমান্ডার আল মঈন বলেন, বুধবার চাঁদপুর থেকে হাসান (১৯) নামে একজনকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। এরপর আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ভোরে মামলার ১৯ নম্বর আসামি জহিরুল ইসলাম বাবুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার ৪/৫ দিন আগে আউয়ালের কলাবাগান অফিসে বসে শাহিন উদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ম্যানেজার তাহের এবং পল্লবী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী সুমনকে হত্যার পরিকল্পনার দায়িত্ব দেয় আউয়াল। সে অনুযায়ী সুমনের সাথে তিন লাখ টাকার চুক্তি হয় তাহেরের।
র্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে সুমন, মনির, হাসান, মানিক, ইকবাল, মুরাদসহ ১০/১২জন অংশ নেয়। এদের কেউ সরাসরি খুনে অংশ নিয়েছিল, কেউ আশেপাশে ছিল। সাহিনুদ্দিনের শরীরের মাথা, গলাসহ উপরের অংশ কোপায় মনির এবং নিচের অংশ কোপায় মানিক। ৫/৬ মিনিটের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘটনাস্থলের কাছে থাকা সুমন ফোন করে সাবেক সংসদ সদস্য আউয়ালকে জানায়- ‘স্যার ফিনিশ’।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে বিকেলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পল্লবী ডি ব্লকে একটি গ্যারেজের ভেতর সন্তানের সামনে শাহিন উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে ২০ জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল। কুপিয়ে হত্যার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করা হয়।