সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে মব করে অপহরণ, ছাত্রদল নেতা আটক লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়

এবার নকল ‘টাইটানিক’ বানাচ্ছে চীন

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : 

যেকোনও জিনিস নকল করতে সারা পৃথিবীতে যেন চীনের জুড়ি নেই। নিজের সেই নাম ধরে রাখতেই হয়তো এবার বিখ্যাত ‘টাইটানিক’ জাহাজের নকল তৈরি করছে দেশটি।

চীনা বিনিয়োগকারী সু সাওজুনও খুব সম্ভবত টাইটানিক জাহাজ এবং ক্যামেরনের টাইটানিক চলচ্চিত্রের বিরাট ভক্ত। আর সে কারণেই বেশ কয়েক বছর আগে সু ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি টাইটানিকের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এই দুর্ভাগা জাহাজের বিশাল বড় এক রেপ্লিকা নির্মাণ করবেন।

সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্র জানায়, সে সময় সু বলেছিলেন, আমরা টাইটানিককে নিয়ে একটা জাদুঘর বানাচ্ছি।

চীনের সিচুয়ান প্রদেশে অবস্থিত রোমানডিসিয়া থিম পার্কের মূল আকর্ষণ হবে ২৬০ মিটার লম্বা এই জাহাজ। খুব শিগগিরই পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। ২০০০ ইউয়ানের বিনিময়ে দর্শনার্থীরা এই জাহাজে রাত্রি যাপন করতে পারবেন।

সু জানিয়েছেন, তার বানানো রেপ্লিকা টাইটানিকের স্টিম ইঞ্জিন ফাংশনের কারণে যাত্রীদের মনে হবে যে তারা আসলেই সমুদ্রের মধ্যে রয়েছে। যদিও তার এই জাহাজ সমুদ্রে চলাচলের যোগ্য নয় বলে এটিকে নদী তীরেই থামিয়ে রাখা হবে।

মজার বিষয় হলো, এই রেপ্লিকা জাহাজের দরজার হাতল থেকে ধরে কেবিনের নকশা পর্যন্ত আসল টাইটানিকের আদলে করা হয়েছে। সেই সাথে বিনোদন পার্কের ট্যুর বাসগুলোতেও বাজতে থাকবে সেলিন ডিওনের গাওয়া বিখ্যাত গান ‘মাই হার্ট উইল গো অন’।

রোমানডিসিয়া পার্কে টাইটানিকের পূর্ণাঙ্গ রেপ্লিকাটি চীনের অ্যামিউজমেন্ট পার্ক শিল্পে একটি বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। অ্যামিউজমেন্ট পার্ক খাতে বিশ্বে চীনের অবস্থান সবার ওপরে। ২০১৮ সালে এইসিওএম চায়না থিম পার্ক পাইপলাইন রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছিল যে ২০২০ সালে চীন ২৩০ মিলিয়ন পরিদর্শককে পার্কগুলোয় স্বাগতম জানাবে এবং টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ১২ মিলিয়ন ডলার আয় হবে।

কিন্তু মহামারির কারণে এই খাতের ব্যবসা ধীর হয়ে যায়। কারণ চীনা নাগরিকদের এখনো দেশের বাইরে ভ্রমণের অনুমতি খুবই সীমিত।

তবে এর আগে কেউ কেউ টাইটানিকের রেপ্লিকা বানানোর এ প্রকল্পটির সমালোচনা করেছেন। এত বড় একটি দুর্ঘটনাকে অ্যামিউজমেন্ট পার্কে রূপদানকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৭ সালে চীনা বিনিয়োগকারী যখন ব্রিটিশ টাইটানিক সোসাইটিতে এসে তার পরিকল্পনার কথা জানান, তখনও কিছু সদস্য একে ’খারাপ পছন্দ’ বলে অভিহিত করেন।

জ্য লেগ-এর বাবা আসল টাইটানিকের একজন তত্ত্বাবধানকারী ছিলেন। লেগ বিবিসিকে বলেন, ‘বাবা যদি জানতেন যে টাইটানিকেরও রেপ্লিকা করা হচ্ছে, তিনি কবর থেকেই জেগে উঠতেন! তারা টাইটানিক ট্র্যাজেডিকে ব্যবসার জন্য ব্যবহার করছে যা খুবই দুঃখজনক।’

বিবিসি জানায়, সু’র থিম পার্কের মূল পরিকল্পনা ছিল কৃত্রিমভাবে বরফপিণ্ডের সঙ্গে সংঘর্ষের একটি অনুভূতি দেয়ার ব্যবস্থা রাখা। কিন্তু পরে তা বাতিল করা হয়।

সোসাইটির সদস্য ডেভিড স্কট-বেডার্ড বলেন, ‘সু আমাদের কথা দিয়েছিলেন যে এসব বিষয় সাবধানতার সঙ্গেই নজর রাখা হবে। জাহাজটি পুরোপুরি বানানো হয়ে গেলে বোঝা যাবে যে তারা আসল জাহাজের নির্মাণশৈলীকে কতটা অনুকরণ করতে পেরেছে। টাইটানিক নিয়ে যাদের আগ্রহ, তাদের সামনে টাইটানিক ও নিহতদের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখারও একটি উপায় হবে এটি।’

সু’র জাহাজ নির্মাণ শুরু হয়েছিল ছয় বছর আগে। ২০১৯ সালে শেষ হবার কথা থাকলেও জাহাজটির নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। পাঁচ মিলিয়নের মতো দর্শনার্থী থিম পার্কে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এর বাড়তি ব্যয় বেড়েছে ১ বিলিয়ন ইউয়ান (১৫৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার)। সু বলেন, ‘আমি মনে করি এই জাহাজ এখানে আগামী ১০০/২০০ বছর টিকে থাকবে।’

তবে এএফপি সূত্র জানায়, কারো কারো মতে এই জাহাজটিও ২০০৮ সালে ইউএসএস এন্টারপ্রাইজের বানানো রেপ্লিকার মত চালু হবার কিছুদিন পরেই পরিত্যক্ত হবে।

অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নেয়ার ক্লাইভ পালমারও ২০১২ সাল থেকে টাইটানিক-২ বানানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই জাহাজটি সমুদ্রে চলার উপযোগী করেই বানানোর কথা রয়েছে। ২০১৬ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন জাহাজটির নির্মাণ কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মূলত ১৯১২ সালে দ্য আনসিংকেবল বা কোনোদিন ডুববে না দাবি করা জাহাজ টাইটানিক তার প্রথম যাত্রায়-ই আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে বরফপিণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে গিয়েছিল। আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিতে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ভেবে নির্মিত জাহাজটি ডুবে যাওয়ায় সেদিন ১৫০০’রও বেশি যাত্রীর নির্মম মৃত্যু ঘটে।

এরপর থেকে টাইটানিকের করুণ পরিণতির গল্প হয়ে উঠেছে এক কিংবদন্তী। আর এর জন্য হলিউড চলচ্চিত্র নির্মাতা জেমস ক্যামেরনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ না দিলেই নয়। কারণ ক্যামেরনই টাইটানিক ট্র্যাজেডি অবলম্বনে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও-কেট উইন্সলেট জুটিকে নিয়ে ১৯৯৭ সালে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘টাইটানিক’ নির্মাণ করেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31