ধর্ম ডেস্ক :
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ। দেশে বর্তমানে প্রচলিত পাঁচ টাকার নোটে পাথরের তৈরি ধুসর বর্ণের প্রাচীন মসজিদটির দেখা মেলে।
প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী মসজিদটি দেখতে আসে। এটি সুলতানী আমলের পরবর্তী সময়ের অন্যতম প্রধান স্থাপত্য নিদর্শন। আফগানি শাসনামলের শুর বংশের শেষদিকের শাসক গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের আমলে সুলায়মান নামে একজন এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদের প্রবেশদ্বারে বসানো ফলকে মসজিদের নির্মাণকাল লেখা রয়েছে হিজরি ৯৬৬ সাল (১৫৫৮-১৫৬৯ খ্রিষ্টাব্দ)।
মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৫৮ ফুট, প্রস্থে ৪২ফুট। দুই সারিতে ৬টি গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের গায়ে রয়েছে লতাপাতার নকশা। প্রাচীর ঘেরা মসজিদটির প্রধান ফটকে প্রহরী চৌকি ছিল। মসজিদটিতে ইটের গাঁথুনি, সামান্য বাঁকানো কার্ণিশ এবং সংলগ্ন আটকোণা বুরুজ। এগুলো থেকে মসজিদের স্থাপত্যে বাংলা স্থাপত্যরীতির প্রভাব পাওয়া যায়।
মসজিদের ভিতরে উত্তর-পশ্চিম কোনের স্তম্ভের উপর একটি উঁচু আসন আছে। ধারণা করা হয়, এই আসনে বসেই তৎকালীন কাজী/বিচারকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যার বিচার কার্য পরিচালনা করতেন।
তবে কালের পরিক্রমায় এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন পড়ে আছে অযত্নে, নেই কোন সংস্কারের ছোঁয়া। বগুড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কুসুম্বা মসজিদটি অধিগ্রহণ করে নামমাত্র একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে।
এই মসজিদটির গম্বুজের খিলানে গোড়ার দিকে লোনা ধরে ইট খুলে যেতে বসেছে। একটি শেড নির্মাণ করা হলেও এখানে দর্শনার্থীদের জন্য নেই ভালো কোন বিশ্রামাগার। পর্যটকসহ গবেষকগণ এ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হালিম বলেন, আমরা পর্যটকদের জন্য একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি। সম্প্রতি কুসুম্বা মসজিদটিকে আকর্ষণীয় করতে পুকুরপাড়ে হাঁটার জন্য রাস্তা ও বেঞ্চ বানানোর একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।
মসজিদটির সংস্কারের জন্য সব রকম চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।