বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের চন্দ্রগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে সেরা ১০ উচ্চ বিদ্যালয়ের শীর্ষে প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন, মহাসড়কে যানজট রায়পুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বাংলাদেশ ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে চীন থেকে সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন

গার্ড অব অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

আকাশবার্তা ডেস্ক :

কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ব্যাপারে বিকল্প খুঁজতেও বলা হয়েছে ওই সুপারিশে।

একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেয়ার আয়োজন দিনের আলোয় সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

রোববার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শাজাহান খান।

কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ বৈঠকে অংশ নেন।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় প্রশাসন। গার্ড অব অনার দিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে মরদেহে ফুলের শ্রদ্ধাও জানান ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

সেই প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নারীর উপস্থিতি নিয়ে এবার আপত্তি তোলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও বৈঠকের সভাপতি শাহজাহান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ধর্মীয় অনুভূতির কারণে এমন সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শাজাহান খান বলেন, এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।

‘গার্ড অব অনার সাধারণত জানাজার সময় দেয়া হয়’ জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, এ জন্য এই ইয়েটা (সুপারিশ) আসছে। যদি গার্ড অব অনার জানাজার আগে দেয় বা পরে দেয়, তখন জানাজা থাকে না। সেইটা একটা জিনিস। আমরা দেখেছি, সব জায়গায় জানাজার সময় গার্ড অব অনার দেয়। ওই জায়গায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনা করে এটা সুপারিশ করা হয়েছে।

ঠিক কী সুপারিশ করা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অব অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।

চিহ্নিত রাজাকারের পরবর্তী প্রজন্মকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলারও সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যারা যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে, সেখানে একটা সরকারি সিদ্ধান্ত আছে। যুদ্ধাপরাধী যারা, তাদের সন্তানরা কেউ সরকারি চাকরি পায় না।

ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভিয়েতনামে তিন প্রজন্ম পর্যন্ত সরকারি চাকরি পাবে না। আর বেলারুশে যুদ্ধাপরাধীদের প্রজন্মরা কখনও সরকারি চাকরি পাবে না।

রাজকার প্রজন্মের হাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলণ্ঠিত হতে পারে এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, আমাদের দেশেও কিন্তু আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সন্তানেরা সরকারি চাকরি পেলে, যখন তারা বড় কর্মকর্তা হয়, তখন কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বা তার চেতনা সম্পর্কিত বিষয়ে সেটা ইগনোরড হয়। এটা করবেই তারা। এজন্য বলছি যে যুদ্ধাপরাধী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, রাজাকার, আলবদর চিহ্নিত যারা, তাদের সন্তানদের ওপর এই সিদ্ধান্তটা হতে পারে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা সংগ্রহেরও সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনাগুলো অবহিত করা, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেয়া কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা এবং চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ‘টাওয়ার ৭১’ ও ‘জয়বাংলা বাণিজ্যিক ভবনের’ কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধোদের পুনর্বাসন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ডের তহবিল গঠনে কোন কোন উৎসকে প্রতিষ্ঠার সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল, মন্ত্রণালয়কে তার বিবরণী আগামী বৈঠকে সবিস্তারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্ধারিত হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে করাসহ ওষুধ খরচ বাবদ নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা থেকে উন্নীত করে ৭৫ হাজার টাকায় নির্ধারণ এবং বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালগুলোতে শতভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করা বিষয়ক সংশোধিত নীতিমালাটি আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশও করে কমিটি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুলাই ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১