আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাবা, শব্দটি শুনলে প্রথমেই যে আর একটি শব্দ মাথায় আসে তা হল দায়িত্ব। বাবা হলেন বটবৃক্ষ, যার নিচে দাঁড়িয়ে প্রতিটি সন্তান নিরাপদ সকল প্রকার বিপদ থেকে। বাবা হলেন নির্ভরতার বিশাল আকাশ, চোখ বন্ধ করেও যার হাত ধরে পাড়ি দেওয়া যায় সাত সমুদ্র। বাবা যার কোনো তুলনা নেই, যার তুলনা সে নিজেই।
হাটি হাটি পা পা করে হাঁটতে শেখা হয় বাবার হাত ধরেই। বাবা সেই মানুষ যিনি প্রতিটি সন্তানকে স্বপ্ন দেখতে শেখান, জীবনের পথ চলতে সেখান। প্রতিটি সন্তানের সাফ্যলোর পেছনে রয়েছে প্রতিটি বাবার লড়াইয়ের গল্প। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান কতখানি, তা চুলচেরা হিসাব করে কেউ বের করতে পারবে না।
পৃথিবীতে সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসা স্বার্থহীন। বাবা এমনই একজন মানুষ যে সন্তানের জন্য নিজের প্রাণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। এমনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর। সম্রাট বাবর তার পুত্র হুমায়ুনের জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবন ত্যাগ করেছিলেন।
বাবা কখনও গরীব বড়লোক হয় না। সন্তানের চাহিদা মেটাতে তিনি যে কোনো পর্যায়ে, যে কোনো কাজ করতে পারেন। তার কাছে সন্তানের হাসিই দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
প্রতিটি সন্তানের কাছে বাবা জীবনের আসল সুপারহিরো কিংবা ম্যাজিকম্যান। সকল বিপদে তাকে পাশে পাওয়া যায়, যার কাছে চাইলেই পূরণ হয় সকল ইচ্ছে।
সন্তানের জীবনে বাবার ঋণ কখনও পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই বাবার কথা মনে পড়লেই প্রতিটি সন্তানের হৃদয়ে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার এক অন্য অনুভব জেগে ওঠে। আজ ১৬ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। বছরের এই একটি দিনকে সন্তানরা আলাদা করে বেছে নিয়েছেন। জুন মাসের তৃতীয় রোববার সারা বিশ্বের সন্তানরা পালন করেন বাবা দিবস।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে ৫ জুলাই এই দিবস পালন করা হয়। মিসেস গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটনের উদ্যোগেই মা দিবসের আদলে দিবসটি পালিত হয়। ১৯০৭ সালের একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ২১০ জন বাবার স্মৃতির উদ্যোগে সেবারের দিবস। তবে তা নিয়মিত হয়নি। তার দুই বছর পর ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনোরা স্মার্ট ডট নতুন পরিসরে বাবা দিবস পালন করে। সেনোরাকেই বাবা দিবসের উদ্যোক্তা মনে করা হয়। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন।
যদিও বাবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা প্রকাশ করার কোনো নির্দিষ্ট দিন বা মাস নেই, প্রতিটি দিনই বাবাদের জন্য। তবুও এই দিনটি সন্তানের কাছে অন্যরকম। বাবাকে হয়ত রোজ ভালোবাসি কথাটা বলা হয় না, কিন্তু আজ সন্তান বাবাকে অনুভব করাতে পারেন কিংবা বলতে পারেন, “বাবা তোমাকে ভালোবাসি”।