
আকাশবার্তা ডেস্ক :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী শপথ নিয়েছেন। প্রায় একই সময়ে শপথ নিয়েছেন নাসিক নির্বাচনে জয়ী সংরক্ষিত আসনের নয় নারীসহ ৩৬ কাউন্সিলর।
আইভীকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে শপথ অনুষ্ঠিত হয়।।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হোসেন চৌধুরী নওফে প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয় নারায়ণগঞ্জে। এ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে পৌনে এক লাখ ভোটে হারিয়ে মেয়র পদে পুনঃনির্বাচিত হন নৌকা প্রতীকের আইভী। তার সঙ্গে ২৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং নয়জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
পাঁচ বছর আগে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির বর্জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা এ কে এম শামীম ওসমানকে এক লাখের বেশি ভোটে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী মেয়র হয়েছিলেন আইভী। তার আগে আট বছর তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
এবার নির্বাচনে জয়ের পর আইভী এ বিজয়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নামে উৎসর্গ করেন এবং সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষা করার অঙ্গীকার করেন।
সারাদেশের মানুষ সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়র হিসেবে জানলেও নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে তার প্রথম পরিচয়, তিনি আলী আহমেদ চুনকার মেয়ে। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান চুনকা আওয়ামী লীগের একজন নেতা হিসেবে ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি নিয়ে প্রবাস থেকে ফেরার পর ২০০৩ সালে আইভী যখন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় ভোটে দাঁড়ান, তখন চুনকার মেয়ে হিসেবেই তাকে বিজয়ী করেছিলেন ভোটাররা। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে যখন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুর্দিন চলছিল, তখন দলের হাল ধরেছিলেন আইভী।
১৯৬৬ সালের ৫ জুন জন্ম নেওয়া আইভী তার আগে রাজনীতিতে ততটা সক্রিয় ছিলেন না। ১৯৯২ সালে রাশিয়ার ওডেসা পিগারভ মেডিকেল ইনস্টিটিউট থেকে ডক্টর অব মেডিসিন (এমডি) ডিগ্রি নেওয়ার পর মিডফোর্ড হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করার সময় ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এরপর ১৯৯৪ সাল থেকে এক বছর নারায়ণগঞ্জের ২০০ শয্যা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর উচ্চতর পড়াশোনা করতে তিনি চলে যান নিউজিল্যান্ডে। সেখান থেকে ২০০২ সালে ফিরে আসার পরই নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সক্রিয় হন রাজনীতিতে। শহর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হন।
পেশাগত অবস্থানের বলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নারায়ণগঞ্জ শাখার আহ্বায়কও হন দুই ছেলের জননী আইভী। আইভী দেশে ফিরলেও তার স্বামী কাজী আহসান হায়াত থেকে যান নিউ জিল্যান্ডে।
সেখান থেকে ২০০২ সালে ফিরে আসার পরই নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সক্রিয় হন রাজনীতিতে। শহর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হন।
পেশাগত অবস্থানের বলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নারায়ণগঞ্জ শাখার আহ্বায়কও হন দুই ছেলের জননী আইভী। আইভী দেশে ফিরলেও তার স্বামী কাজী আহসান হায়াত থেকে যান নিউ জিল্যান্ডে।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন অবসানের পর নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠলে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ান আইভী। আওয়ামী লীগের বাইরে বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে এসময় পাশে পান তিনি।
পৌরসভা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে ফের প্রার্থী হন আইভী। আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়েও ১লাখ ভোটে পরাজিত হন শামীম ওসমান। আর আইভী জয় লাভ করেন।