আকাশবার্তা ডেস্ক :
মাগুরায় ৬৭ বছর বয়সি এক মৃত ব্যক্তির লাশ মাটির কবরে দাফন না করে একতলা ছাদবিশিষ্ট ইটের নির্মিত পাকাঘরের ভেতর আটদিন ধরে রেখে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলা শহরের কাশিনাথপুর মধ্য কারিগরপাড়া গ্রামে।
গত ২৮ আগস্ট ঘটনাস্থল গিয়ে জানা যায়, কাশিনাথপুর মধ্য কারিগরপাড়ার মৃত আরজু মোল্লার ছেলে তৈয়ব মোল্লা গত ২২ আগস্ট আড়াইটার দিকে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে মৃতের জানাজা রাত ৯টার সময় মাটি না দিয়ে রেখে দেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলা থেকে আগত দুই-তিনজন ব্যক্তি মৃত তৈয়ব মোল্লাকে তার থাকার পাশের রুমটিতে রেখে রাজমিস্ত্রির সাহায্য নিয়ে ইটের গাঁথুনি দিয়ে প্লাস্টার করে দিয়েছেন দরজা। এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছেন না এ ইসলামবিরোধী কাজ। তারা বলেন, একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর মুর্দাকে গোসল, কাফন, জানাজার পর মাটিতে কবর দেয়া হয়। কয়েকজন ভণ্ড মাজার পূজারি এসে মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন।
সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, মৃত তৈয়ব মোল্লার মরদেহ একতলা ছাদবিশিষ্ট ঘরের এক রুমে রেখে রুমের দরজা ইট-সিমেন্ট এবং বালু দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘরটি দুই রুমবিশিষ্ট। এক রুমে তৈয়ব মোল্লা নিজে থাকতেন, অন্য রুম ছিলো খালি। আর এই খালি রুমেই মৃত তৈয়ব মোল্লাকে রাখা হয়েছে…! আর এভাবেই রয়েছে মৃত তৈয়ব মোল্লার দেহটি গত আটদিন ধরে। উল্লিখিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাশিনাথপুর জামে মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে প্রতিদিন চলছে সমালোচনার ঝড়।
তাদের দাবি, একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর এরকম দাফন-কাফন ছাড়া রুমের মধ্যে রাখা বড় অন্যায়। কাশিনাথপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং কাশিনাথপুর এলাকা সূত্রে জানা যায়, মৃত তৈয়ব মোল্লার দাফন-কাফনের বিষয় ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, এই মৃতদেহকে ঘরের মধ্যে রেখে এখানে মাজার বানানোর পাঁয়তারা করে চলেছে কিছু লোক, তা কখনোই হতে দেয়া হবে না। ইসলামবিরোধী কোনো কাজ এই গ্রামে আমরা মেনে নেবো না।
তাদের দাবি, একজন মুসলমানের দাফন-কাফন এভাবে কখনোই ইসলামি রীতি ছাড়া হতে পারে না। তারা আরো মনে করেন, মৃতের লাশকে ওই ঘর ভেঙে বের করে ইসলামি রীতিতে দাফন-কাফনের মাধ্যমে কবর দিতে হবে। এক শ্রেণির কুচক্রী শিরক, ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই মৃত লাশ নিয়ে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছেন।
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্থানীয় জনগণ আরো বলেন, ঝিনাইদহ থেকে আসা হানিফ, হাকিম এবং কাশিনাথপুর গ্রামের জাফর ও আলামিন মৃত ব্যক্তির লাশ রাখা ঘরটিকে মাজারে পরিণত করার পাঁয়তারা করে চলেছেন, যা কখনো এই কাশিনাথপুর গ্রামে হতে দেয়া যাবে না। এই ঘৃণিত জঘন্য কাজটি যারা করার চেষ্টা করছেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ইতোমধ্যেই এই ঘরের সামনে খুঁটি স্থাপন করে মাজার বানানোর পাঁয়তারা চলছে।
এ সময় মৃত তৈয়ব মোল্লার ভাবী সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে বলেন, মৃত তৈয়ব মোল্লা ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন তাকে দাফন না করে এভাবে ঘরে রাখতে। তবে তিনি মৃত তৈয়ব মোল্লার লিখিত কোনো ওসিয়তনামা দেখাতে পারেননি। এ সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।