আকাশবার্তা ডেস্ক :
বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নরসিংদীর রায়পুরায় গৃহবধূ রুনা আক্তারকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় খোরশেদ মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (২ জানুয়ারি) সিআইডির অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সিআইডি।
বহুবিধ চাপ একা সামলাতে হচ্ছিল নরসিংদীর রায়পুরার রুনা আক্তারকে। স্বামী থাকেন সৌদি আরবে। সংসারে ছোট ছোট তিন সন্তান। সে অবস্থায় শ্বশুড়বাড়িতে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির আত্মীয় স্বজনের দাবি ছিল, ধারদেনা করে যে টাকা দিয়ে স্বামী বিদেশে গেছে, সেই টাকা, শোধ করতে হবে, রুনার পরিবারকে।
এক পর্যায়ে স্বামী ও শ্বশুড়াবাড়ির স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করে, রুনা চলে যান বাবার বাড়ি। সেই মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয় স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। এসবের মাঝেই স্থানীয় খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি রাজ্জাকের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেয় রুনাকে। রাজি না হওয়ায় এর আগে আর্থিক সহযোগিতা করায় সেই টাকা ফেরত দিতে বলা হয় রুনাকে।
সিআইডি জানায়, সম্পূর্ণ ক্লু লেস ছিল হত্যাকাণ্ডটি। হত্যার ঘটনাটি কেন এবং কিভাবে সংগঠিত হয়েছে, কারা জড়িত, পূর্ব কোন বিরোধ ছিল কিনা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ভিকটিমের পরিবার, ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস হতে সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তীতে এলআইসির একাধিক টিম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় খোরশেদকে নেত্রকোনা থেকে এবং আব্দুর রাজ্জাককে নরসিংদীর হতে গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মামার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হন রুনা আক্তার। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার নম্বর বন্ধ পান। পরবর্তীতে ১৩ ডিসেম্বর সকালে স্থানীয় লোকজন গ্রামের ধানক্ষেতে রুনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।