সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

খুনের পর সিরিয়াল কিলার বাউলের ছদ্মবেশ

আকাশবার্তা ডেস্ক :

হত্যাকাণ্ড, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধের পর বাউলের ছদ্মবেশ ধারণ করেন হেলাল হোসেন ওরফে সেলিম ফকির ওরফে খুনি হেলাল। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা ছাড়াও আরও দুটি মামলা আছে। অবশেষে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের জালে ধরা পড়লো এই সিরিয়াল কিলার।

জানা গেছে, সিরিয়াল কিলার হেলাল অষ্টম শ্রেণি পাস করে কাজ করতেন মুদির দোকানে। ২০০১ সালে চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যাকাণ্ডে ৪ জন আসামির মধ্যে তিনি অন্যতম। এ হত্যাকাণ্ডে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। এছাড়া তিনি ১৯৯৭ সালে বিষু হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ২১ বছর বয়সে অপরাধ জগতে পা রাখেন। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন মারামারিতে অংশ নিয়ে দুর্ধর্ষ হেলাল নামে পরিচিত লাভ করেন।

ছয় মাস ধরে র‌্যাবের গোয়েন্দারা তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশন এলাকা থেকে হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন থেকে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম জানায়, ২০০১ সালের বগুড়ার চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।  সে আরও ২টি হত্যা মামলার আসামি। ১৯৯৭ সালে বগুড়ার বিষ্ণু হত্যা মামলা এবং ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলার আসামি বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। ১৯৯৭ সালে বগুড়াতে চাঞ্চল্যকর বিষ্ণু হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।  সেলিম ২১ বছর বয়সে ওই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানা যায়। এভাবেই সে বিভিন্ন অপারাধমূলক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থেকে শুরু করে এবং এলাকায় হেলাল নামে পরিচিতি পায়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০০০ সালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতে মারাত্মক জখম হয়। বাম হাত পঙ্গু হয়। এ ঘটনার পর থেকে সে বিভিন্ন নামে (দুর্ধর্ষ হেলাল,  হাত লুলা হেলাল) এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। ২০০১ সালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল হাসান বিদ্যুৎকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।  হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিদ্যুতের পরিবার বাদি হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়।

২০০৬ সালে বগুড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রবিউল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেলিম ওই হত্যাকাণ্ডের একজন চার্জশিটভুক্ত আসামি।

২০১০ সালে বগুড়া সদর থানায় দায়েরকৃত একটি চুরির মামলায় ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হয় সেলিম। একই সাথে ২০০১ সালের বিদ্যুৎ হত্যা মামলার বিচারকাজ চলমান থাকে। ২০১৫ সালেই ওই চুরির মামলায় সে জামিনে মুক্ত হয় এবং একই দিনে বিদ্যুৎ হত্যা মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেলিম ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া  করে। পরে এলাকায় মুদি দোকানদারি শুরু করে। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে।  তার বিরুদ্ধে ২০১০ সালে দায়েরকৃত চুরির মামলায় ২০১৫ সালে জামিন প্রাপ্তির দিনে বিদ্যুৎ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হলে কৌশলে এলাকা ত্যাগ করে। পরে ফেরারি জীবনযাপন শুরু করে। প্রথমে সে বগুড়া থেকে ট্রেনযোগে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে আসে। পরবর্তীতে কমলাপুর থেকে ট্রেনযোগে সে চট্টগ্রামে চলে যায় এবং সেখানকার আমানত শাহ মাজারে ছদ্মবেশ ধারণ করে বেশকিছুদিন অবস্থান করে। সেখান থেকে ট্রেনযোগে সিলেটের শাহজালাল মাজারে চলে যায়। সিলেটে গিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে আরও কিছুদিন অবস্থান করে। বিভিন্ন সময়ে সে বাংলাদেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন ও মাজারে ছদ্মবেশে অবস্থান করত। সে কিশোরগঞ্জ ভৈরব রেলস্টেশনে নাম-ঠিকানা ও পরিচয় গোপন রেখে সেলিম ফকির নাম ধারণ করে।

র‌্যাব জানায়, আনুমানিক ৫ বছর আগে হেলাল নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে কিশোর পলাশ ওরফে গামছা পলাশ এর একটি গানের শুটিং চলাকালে রেললাইনের পাশে বাউল গান গাচ্ছিল। তখন শুটিংয়ের একজন ব্যক্তি তাকে গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলে বহুল জনপ্রিয় ‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল’ শিরোনামের গানের বাউল মডেল হিসেবে তাকে দেখা যায়। প্রায় ৭ বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ফেরারি জীবনযাপন করছে। গত প্রায় ৪ বছর ধরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনের পাশে একজন নারীর সাথে সংসার করে আসছে। বিভিন্ন রেলস্টেশনে সে বাউল গান গেয়ে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আনুমানিক ৬ মাস আগে জনৈক ব্যক্তি ইউটিউবে প্রচারিত একটি গানের বাউল মডেল সম্পর্কে র‌্যাবের কাছে তথ্য দেয়, ওই মডেল সম্ভবত বগুড়ার বিদ্যুৎ হত্যা মামলার আসামি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত বিষয়ে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে র‌্যাব নিশ্চিত হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31