বিশেষ প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মারজাহান আক্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে স্কুলের ভূমি দাতা কাজী আবদুন নূরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন খান বিষয়টি তদন্ত করছেন।
এদিকে অভিযোগপত্রে জানা যায়, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ক্ষমতার অপব্যবহার, অপকর্ম, স্কুলের শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও সহকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার মাধ্যমে স্কুলটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তাঁর এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তিনি ওই প্রতিবাদকারীকে নানাভাবে হয়রানি করেন। নিজস্বার্থ হাসিলের জন্য পছন্দের লোকদের নিয়ে স্কুুল পরিচালনা কমিটি গঠন করেন।
এক্ষেত্রে স্কুলের জমিদাতাসহ এলাকার গণ্যমান্য কাউকে তিনি তোয়াক্কা করেননি। বর্তমান স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়েও নানাভাবে তালবাহানা করেছিলেন। উক্ত কমিটির সভাপতি নিজেও তার এসব অপকর্ম সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
তিনি বিগত ২০ বছর একই পদে থেকে স্কুলের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে দান অনুদান গ্রহণ করে ওই টাকা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাত করেন।
অভিভাবকরা জানান, পঞ্চম শ্রেণির উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।
বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ইসলামী ব্যাংক চৌমুহনী শাখায় জমা রেখেছেন। গণিপুরে ২০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিক তিনি। গতবছর তিনি স্কুলের পাশে নিজের নামে ২৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২৮.৫ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। যার দলিল নং-৯৪৩-১৬। তার অব্যবস্থাপনার কারণে স্কুলে অনেক জাতীয় দিবসও পালন করা হয়না।
অভিযুক্ত নরোত্তমপুর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মারজাহান আক্তারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইলে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন খানের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি তদন্ত শুরু করেছি। যেটা সত্য তাই রিপোর্ট দেওয়া হবে।