‘বন্ধু’ শব্দটি খুব ছোট। কিন্তু এর বিশালতা অনেক বড়। আমরা সেই ছোট্ট শিশু থেকে কিশোর, তরুণ, যুবক পর্যন্ত বন্ধু শব্দটির সাথে খুব পরিচিত। বন্ধু ছাড়া মনে হয় যেন লাইফটাই ফানসে। একজন মানুষ একজন প্রকৃত বন্ধুর অভাব সব সময় মর্মে মর্মে অনুভব করেন। সব মানুষ তার লাইফে এমন বন্ধু খুঁজে নিতে চান, যার সাথে সব কিছু শেয়ার করা যায়। তাই একটি কথা আজ আরো বেশি পরিচিতি পেয়েছে, তা হচ্ছে ‘বন্ধু ছাড়া লাইফ ইনপসিবল’।
একজন সিনিয়র সংবাদকর্মী তাঁর ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের কোনো বন্ধু নেই। তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে সাংবাদিক আর প্রকৃত সাংবাদিকের মধ্যে প্রার্থক্য কী? কে প্রকৃত আর কে প্রকৃত নয়, এর মানদন্ড বিচার করা হয় কীভাবে। তাছাড়া সাংবাদিকরা যদি অন্য সব মানুষের মতই হয় তাহলে সাংবাদিকের বন্ধু থাকবেনা কেন? তাহলে সাংবাদিকরা কী এ জগতের মানুষ নয়? নাকী তারা ভিন্ন গ্রহ থেকে দুনিয়াতে এসেছে। নাকী সাংবাদিকরা জন্তু, জানোয়ার?
যদি ধরে নেওয়া হয় যে কোনো সময় যে কারো বিরুদ্ধে কলম ধরতে পারার সুবিধার জন্য সাংবাদিকরা কারো সাথে বন্ধুত্ব করেন না। তাহলে আমি মনে করি এটা দুঃখজনক। ব্যক্তিগত জীবনে কোনো মানুষই ভুল ক্রুটির উর্ধ্বে নয়। আমাদের সমাজে ন্যায় নীতির কথা বলা যত সহজ, কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করা অত সহজ হয়না। বন্ধুর সম্পর্কের সাথে তার অপরাধের মানদন্ড মূল্যায়ন চলেনা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমার বন্ধু হয়তো অপরাধ করতেও পারে। সেক্ষেত্রে তার অপরাধের ধরণ এবং এর বাস্তবতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যদি বন্ধু একেবারে ক্ষমার অযোগ্য কোনো অপরাধ করেন, তাহলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সে অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য বা নিন্দনীয় হলেও অতীত স্মরণে ওই বন্ধুর বিরুদ্ধে আমার কলম ব্যবহার কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে?
‘প্রকৃত সাংবাদিকদের কোনো বন্ধু নেই’ বা ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই’ এই দুটি তত্ত্ব কে কখন কোথায় থেকে আবিস্কার করেছেন আমার জানা নেই। তবে যারা এসব তত্ত্ব ব্যবহার করেন, তারা হয়তো ব্যর্থ নতুবা জ্ঞানপাপী অথবা নষ্ট চরিত্রের অধিকারী।
আমি কাউকে আহত করার জন্য বা কাউকে খাট করার জন্য আজকে এই বিশেষ প্রতিবেদন লিখতে বসিনি। আমরা খুব সহজে অপরের সমালোচনায় মুখরিত থাকি। কিন্তু আয়নায় নিজের চেহারাটা ভালো করে দেখিনা। আমি কে? কোথায় থেকে এসেছি, কোথায় আমার জন্ম, আমার অতীত কর্মকান্ড কতটুকু সঠিক ছিল? আত্মসমালোচনা আর আত্মবিশ্লেষন করলে নিজেই নিজের কাছে লজ্জিত হতে হবে। অথচ আমরা নীচক বিরোধীতার খাতিরে অন্যকে তুলোধুনো করতে মোটেও চিন্তা করিনা। সব সময় আমি যদি মনে করি আমি সঠিক অবস্থানে আছি, তাহলে কখনও নিজেকে শোধরাতে পারবনা। অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজেকে বদলাতে হবে।
তাই আবারও বলব, বন্ধু বন্ধুই। এখানে প্রকৃত, অপ্রকৃত কোনটাই স্থান পেতে পারেনা। আমরা সবাই মানুষ। অতএব, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।
লেখক : মো. আলী হোসেন, সম্পাদক-আকাশবার্তাবিডি ডটকম।